প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬
চাঁদপুরে হঠাৎ গরু-ছাগল উধাও,আসল কারণ কী?
||
পোস্টঃ দৈনিক প্রথম সকালআসন্ন কোরবানির ঈদ (ঈদুল আজহা) ঘিরে গবাদিপশুর বাজার সরগম হয়ে উঠেছে। সরকারি হিসাবে দেশে চাহিদার তুলনায় বেশি আছে কোরবানিযোগ্য পশু।বিভিন্ন জেলা থেকেও একই খবর পাওয়া যাচ্ছে।তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলা চাঁদপুরে।জেলায় চাহিদার তুলনায় কোরবানিযোগ্য পশুর ঘাটতি রয়েছে।প্রণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে–চাঁদপুরে ২২৫টি হাট কোরবানির পশু বিক্রি হবে। কোরবানির জন্য সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে ৭৫ হাজার ২৪৮ গবাদিপশু। প্রস্তুত রয়েছে ৬৬ হাজার ৯৮টি। সংকট রয়েছে নয় হাজার ১৫০টি।স্থানীয়দের মতে পদ্মা,মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত এই জেলা মূলত মৎস্যনির্ভর অর্থনীতি। ইলিশ মাছের অন্যতম প্রজনন অঞ্চল।জেলার প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি মানুষ মৎস্য পেশার সঙ্গে জড়িত।গবাদিপশু যারা লালন-পালন করেন তারা নানামুখী সংকটে আছেন।পর্যাপ্ত সুবিধা না পাওয়ার কারণে অনেকে গবাদিপশু লালন-পালন থেকে সরে যাচ্ছেন।জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী,জেলায় তালিকাভুক্ত খামারি রয়েছেন তিন হাজার ৫১৫ জন। খামারগুলোতে গরু উৎপাদনের সক্ষমতা ৪৬ হাজার ২৮৩টি।ছাগল ১৯ হাজার ৩৪৬টি এবং ভেড়া উৎপাদন হয়েছে ৪৪৬টি ।মোট উৎপাদন হয়েছে ৬৬ হাজার ৯৮টি গবাদি পশু। এবার জেলায় কোরবানির জন্য গবাদিপশু প্রয়োজন ৭৫ হাজার ২৪৮টি।খামারিরা জানান কেউ লোকসান দিতে চাইবে না। লোকসানের কারণে খামারি ও উৎপাদন কমে যাওয়া স্বাভাবিক। গবাদিপশুর খাদ্যের দাম বৃদ্ধি,খড়ের অপর্যাপ্ততা রয়েছে। এসবের সঙ্গে আছে শ্রমিক সংকট। অনেকের ইচ্ছে থাকলেও গবাদিপশু পালনে আগ্রহ হারাচ্ছেন।খামারি তৈরি করার জন্য সরকারি প্রণোদনা প্রয়োজন।মোঃ হানিফ নামে এক খামারি বলেন অন্য জেলা থেকে এনে হয়তো চাহিদা পূরণ করা যাবে।কিন্তু স্থানীয়ভাবে পালিত কোরবানির পশুর প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি। আমাদের সমস্যা হচ্ছে শ্রমিকের দৈনিক হাজিরা ও খাদ্যের দাম বেশি।বিক্রি মূল্যের উপর নির্ভর করবে আমাদের লাভ-লোকসান।শঙ্কা প্রকাশ করে রাসেল নামে এক ক্রেতা বলেন খামারিদের খরচের প্রভাব পড়বে পশুর হাটে। ঈদে কোরবানির পশুর দাম বেশি হতে পারে। হয়তো অনেকের নাগালের বাইরে থাকতে পারে।জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. জ্যোতির্ময় ভৌমিক বলেন চাহিদার তুলনায় জেলায় পশুর ঘাটতি রয়েছে।আশপাশের জেলার হাটে পশু এলে ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে।
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক প্রথম সকাল । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত