প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
কুয়াকাটা সৈকতের সৌন্দর্য ধ্বংসের চেষ্টা,লেম্বুরবনে বালু উত্তোলনের দায়ে কারাদণ্ড
||
রিপন সাব্বির,কালাপাড়া পটুয়াখালী। পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের অদূরে লেম্বুরবন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে মহিবুল্লাহ (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।সৈকতের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি করে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে স্থানীয়দের সোচ্চার হওয়ার পর দ্রুত এই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো।অদ্য শুক্রবার ১২ ই জুন দুপুর দেড়টার দিকে কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এই দণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়।স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান শুক্রবার সকাল থেকেই কুয়াকাটার লেম্বুরচর স্পটে স্কেভেটর (ভেকু) মেশিন নামিয়ে সৈকত থেকে বালু উত্তোলন শুরু করা হয়।উত্তোলনকৃত বালু ট্রাকযোগে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছিল।সৈকতের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন এবং ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। বিষয়টি ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক জানান, 'বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০'-এর ৪ ও ১৫ ধারার বিধান অনুযায়ী অপরাধীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন "কুয়াকাটা সৈকত আমাদের জাতীয় সম্পদ। এর পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসন সর্বদা সতর্ক।সৈকতের সৌন্দর্যহানি বা পরিবেশ ধ্বংসকারী কোনো কর্মকাণ্ডই বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আমাদের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।"স্থানীয় পরিবেশবাদী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।তারা মনে করছেন এ ধরনের কঠোর আইনি ব্যবস্থা কুয়াকাটার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পর্যটকদের জন্য সৈকতকে আরও সুরক্ষিত রাখবে।
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক প্রথম সকাল । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত