প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
চা-মুড়ি,নাসিরনগরের আড্ডায় এক কাপ চায়ের কত গল্প
||
পল্লব চক্রবর্তী,করেসপন্ডেন্ট,নাসিরনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া। বিকেল গড়ালেই নাসিরনগরের এক চেনা জায়গায় শুরু হয় অন্যরকম এক ব্যস্ততা।ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ,সঙ্গে মুড়ি,আর জমজমাট আড্ডা-নাম তার ‘চা-মুড়ি’।দীর্ঘদিন ধরে চা-প্রেমীদের আড্ডার এই পরিচিত ঠিকানাটি পরিচালনা করছেন উদ্যোক্তা সৌরভ দেব ।বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে ‘চা-মুড়ি’। প্রতিদিনই এখানে ভিড় করেন অসংখ্য চা-প্রেমী।তবে শুধু সাধারণ চা নয়,স্বাদের বৈচিত্র্যই এই স্টলের অন্যতম আকর্ষণ।দুধ চা,স্পেশাল চা,মালাই চা,কাশ্মীরি চা, মসলা চা ও জাফরানি চা-চায়ের নাম শুনলেই যেন বোঝা যায়, এখানে এক কাপ চা মানেই স্বাদের নতুন অভিজ্ঞতা।কেউ পছন্দ করেন দুধ চায়ের পরিচিত স্বাদ,কেউ খোঁজেন মালাই বা মসলা চায়ের ভিন্নতা।আবার নতুন স্বাদের সন্ধানে তরুণদের কাছে কাশ্মীরি কিংবা জাফরানি চাও হয়ে উঠতে পারে কৌতূহলের বিষয়। আর এক কাপ চায়ের সঙ্গে মুড়ি থাকলে আড্ডাটা যেন পূর্ণতা পায়!‘চা-মুড়ি’র আরেকটি বিশেষত্ব-ঋতু ও উৎসবের সঙ্গে এর রূপও বদলে যায়।বিশেষ করে ঈদ ও পূজার সময়ে এখানে বাড়ে মানুষের আনাগোনা।দেশের বিভিন্ন জায়গায় থাকা এলাকার মানুষ যখন উৎসব উপলক্ষে বাড়ি ফেরেন, তখন আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি চায়ের আড্ডাতেও জমে উঠে উৎসবের আমেজ।এলাকার বাইরের অতিথিরাও এসে যুক্ত হন সেই আড্ডায়।সৌরভের এই উদ্যোগ শুধু চা বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি নিজের উদ্যোগে কিছু করার অনুপ্রেরণার গল্প।ছোট পরিসরের একটি ধারণা কীভাবে মানুষের পছন্দের জায়গায় পরিণত হতে পারে,‘চা-মুড়ি’ তারই একটি সুন্দর উদাহরণ।একই সঙ্গে এমন উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিতে তৈরি করছে অর্থের প্রবাহ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ।নাসিরনগরের কাছে তাই ‘চা-মুড়ি’এখন শুধু একটি চায়ের স্টল নয়-এটি চায়ের স্বাদে,মুড়ির মচমচে আনন্দে আর মানুষের গল্পে তৈরি এক পরিচিত আড্ডার নাম।চায়ের কাপ শেষ হয়, মুড়ির বাটি খালি হয়-কিন্তু ‘চা-মুড়ি’র আড্ডা যেন শেষ হওয়ার নয়!
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক প্রথম সকাল । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত