প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তৃণমূলের মাঠ থেকে বিসিবির বোর্ডে,লালমনিরহাটের ক্রিকেট তারকা ফরিদ হোসেন
||
ফারুক আহমেদ সূর্য,জেলা করেসপন্ডেন্ট,লালমনিরহাট। রেডিওতে ক্রিকেট ধারাবিবরণী শোনা আর পাড়ার সাদা-কালো টেলিভিশনে খেলা দেখার রঙিন স্বপ্ন বুনেছিলেন যে তরুণ, তিনি আজ দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়।কথা হচ্ছে লালমনিরহাটের কৃতী সন্তান ও সাবেক ক্রিকেট অলরাউন্ডার ফরিদ হোসেনের।মাঠ কাঁপানো ক্রিকেটার থেকে সফল ক্রীড়া সংগঠক, ফরিদ হোসেনের এই উত্থানের গল্প যেন তৃণমূলের এক স্বপ্নজয়ের মহাকাব্য।সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড উইং এ মনোনীত হওয়ায় লালমনিরহাটের ক্রীড়ামোদী মানুষের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার।খেলার মাঠে তাঁর হাতেখড়ি হয়েছিল ১৯৯৬ ইং সালে স্থানীয় বড় ভাই মোক্তার আলী'র তত্ত্বাবধানে। এর পর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি।১৯৯৭ ইং সালে সোনালী সংঘের হয়ে জেলা ১ম বিভাগ ক্রিকেটে অভিষেকেই অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে তাক লাগিয়ে দেন এই পেস অলরাউন্ডার।মেধার সাক্ষর রেখে দ্রুতই জায়গা করে নেন জেলা অনূর্ধ্ব-১৪ দলে। ১৯৯৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১১ বছর লালমনিরহাট জেলা দলের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৫, ১৭, ১৯ ও মূল দলের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় এবং অধিনায়ক হিসেবে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত পেস বোলিং হান্টিং প্রতিযোগিতায় রাজশাহী বিভাগে ৫ম স্থান অর্জন করে নিজের বোলিংয়ের বিষাক্ত ধার প্রমাণ করেছিলেন তিনি।যার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ছিলেন তৎকালীন কোচ সারোয়ার ইমরান।মাঠের পারফরম্যান্সে নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি সোনালী ক্লাব, অভিযান ক্লাব ও সবুজ সংঘ ছাড়াও রংপুর ও রাজশাহী প্রিমিয়ার ডিভিশন এবং ঢাকা ১ম বিভাগ লীগে দাপটের সাথে খেলেন। ২০০৮ সালে বগুড়ার ঐতিহাসিক শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রিকেট লীগে (NCL) তিনি শেষ বারের মতো খেলোয়াড় হিসেবে অংশ গ্রহণ করেন।২০০৮ ইং সালের শেষের দিকে খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি টেনে তিনি পুরোপুরি মন দেন ক্রীড়া সংগঠনে। বর্তমানে তিনি লালমনিরহাট ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক,অভিযান ক্লাবের আজীবন সদস্য,তরুণ সংঘ ক্লাবের সভাপতি,ইউনাইটেড রংপুর ফিজিক্যালী চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট টিম এর সভাপতি (বিসিবি এন লিস্টেড টিম),ইউনাইটেড গোল্ডেন সিটিজেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি,বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ক্রীড়া ফেডারেশন এর সিনিয়র সহ-সভাপতি,বাংলাদেশ ব্লাইন্ড স্পোর্টস ফেডারেশন এর পরিচালক,বাংলাদেশ ফিজিক্যালী চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট ক্লাব এসোসিয়েশনের সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন প্রাণ দিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে তিনি এক অনন্য অগ্রদূত। তিনি ফিজিক্যালী চ্যালেঞ্জড ক্রিকেটারদেরজন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ন্যাশনাল প্যারা-অলিম্পিক কমিটি ও বিসিবির যৌথ আয়োজনে দেশের মাত্র ৬ জন সফল সংগঠকের ১ জন হিসেবে বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের হাত থেকে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন ফরিদ হোসেন। এছাড়া ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে সার্টিফিকেশন করে।খেলা ও মাঠের বাইরে সামাজিক,মানবিক ও ব্যবসায়ী অঙ্গনেও ফরিদ হোসেন এক সফল ব্যক্তিত্ব। উত্তরবঙ্গের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান শাহ্ আলী পরিবহনের চেয়ারম্যান এবং "ফাইহা গ্রুপ"-এর কর্ণধার হিসেবে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।বিসিবিতে নতুন দায়িত্ব পাওয়া এবং নিজের দীর্ঘ ক্রীড়া জীবনের অনুভূতি জানাতে গিয়ে জাতীয় দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার লালমনিরহাট প্রতিনিধির এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আবেগপ্লুত কণ্ঠে ফরিদ হোসেন বলেন-তৃণমূলের একজন সাধারণ ক্রিকেটার হিসেবে মাঠ থেকে যে যাত্রার শুরু হয়েছিল,বিসিবির মতো সর্বোচ্চ সংস্থায় কাজের সুযোগ পেয়ে সেই পথচলা আরও দায়িত্বশীল জায়গায় পৌঁছালো।বিশেষ করে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে যেসব তরুণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়াতে পারা আমার জীবনের অন্যতম বড় স্বার্থকতা।বিসিবির ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড উইং এর মাধ্যমে আমাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রিকেটারদের আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ সুনিশ্চিত করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। লালমনিরহাটসহ উত্তরবঙ্গের ঝরে পড়া ও অবহেলিত প্রতিভাদের জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনতে আমি আজীবন কাজ করে যেতে চাই। দেশবাসী ও আমার জেলাবাসীর ভালোবাসা এবং দোয়াই আমার মূল চালিকাশক্তি।তৃণমূলের মাটি থেকে উঠে আসা এই গুণী ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকের এ অর্জনে উচ্ছ্বসিত লালমনিরহাটের ক্রীড়াঙ্গন।জেলার প্রবীণ ও নবীন ক্রীড়াবিদরা তাঁর এই সাফল্যকে উত্তরবঙ্গের ক্রিকেটের জন্য এক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক প্রথম সকাল । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত