প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
গাজীপুরে জমি নিয়ে বিরোধ,আওয়ামী লীগ নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে গৃহবধূর হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ
||
আশরাফুল আলম সরকার,করেসপন্ডেন্ট, গাজীপুর। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা যোগীরছিট এলাকায় জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে নাসিমা আক্তার (৩২) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।গত ১ লা নভেম্বর সকালে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের যোগীরছিট এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায় নাসিমা আক্তারের স্বামী সামসুল হক চাঁদপুরের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। সেই সুবাদে তিনি কর্মস্থলেই থাকেন এবং মাঝে-মধ্যে বাড়িতে আসেন। তাদের বসতবাড়ির উত্তর পাশে ফরেস্টের বলদীঘাট বিটের আওতাধীন লিজকৃত সরকারি খাস জমি রয়েছে।গত ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিবারটি ওই জমিতে গাছপালা রোপণসহ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছে।অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি জবরদখল করার পাঁয়তারা চালিয়ে আসছিল একটি মহল।পরিবারে সাবালক পুরুষ সদস্য না থাকায় বিভিন্ন সময় তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নাসিমা আক্তার ওই জমিতে ঘাস কাটতে গেলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাঠিপেটা করেন।একপর্যায়ে ১ নম্বর অভিযুক্ত সারফুল ইসলামের হাতে থাকা লোহার রডের আঘাতে তার ডান হাতের কব্জির উপরের অংশ ভেঙে যায়। পরে ৩ নম্বর অভিযুক্ত মোছাঃ মুক্তার সহযোগিতায় আবারও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তার বাম হাতের কব্জির ওপরের অংশও ভেঙে দেওয়া হয়। এ সময় হামলাকারীরা তার শ্লীলতাহানি করেন এবং গলায় থাকা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যান বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মুমূর্ষু অবস্থায় নাসিমা আক্তারকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।কাওরাইদ ইউনিয়নের যোগীরছিট এলাকার সারফুল ইসলাম,সিরাজুল ইসলাম ও মোছাঃ মুক্তা।এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।এদিকে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত সারফুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকার লোকজনের সাথে এর আগেও এ ধরনের খারাপ আচরণ ও প্রভাব বিস্তারের বহু অভিযোগ রয়েছে। একজন নারীর ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা ও হাত ভেঙে দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এলাকাবাসী অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানা-পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাইপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক প্রথম সকাল । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত