বনানী কবরস্থানে ফরিদা বেগমের দাফন সম্পন্ন
বিশেষ প্রতিবেদক,দৈনিক প্রথম সকাল। রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলের মা ফরিদা বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।অদ্য রবিবার ৬ ই সেপ্টেম্বর বাদ জোহর রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।এর আগে গুলশানের আজাদ মসজিদে মরহুমার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাসভবনে ফরিদা বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।এ সময় তাকে গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে (সাবেক ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।তিনি চার ছেলে,নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজার আগে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মরহুমার বড় ছেলে এবং রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল।মায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন ১৫ বছর বয়সে বাবা হারিয়েছি। সেই সময় থেকে মা-ই আমাদের অভিভাবক ছিলেন।তিনি হজ্ব পালন করেছেন,ওমরাহও করেছেন।মহান আল্লাহ তার জীবনের গুনাহর খাতা মাফ করে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।মায়ের স্মৃতি মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন যেখানেই থাকতাম,প্রতিদিন মায়ের কাছে হাজিরা দিতাম।আমার মায়ের কথায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে মাফ করে দেবেন।কান্নাজড়িত কণ্ঠে সবার কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন মহান আল্লাহ যেন আমার মাকে মাফ করে বেহেশত নসিব করেন। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মরহুমার দৌহিত্র,রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান ও দেশ রূপান্তরের প্রকাশক মাহির আলী খাঁন রাতুল,মরহুমার ছেলে ও রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আলী আকবর খাঁন রতন,মরহুমার দৌহিত্র ও রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফ আলী খাঁন অতুলসহ পরিবারের সদস্যরা।ফরিদা বেগমের মৃত্যুতে রূপায়ণ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অনেকেই বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। জানাজা ও দাফনেও শরিক হন তারা।ফরিদা বেগমের মৃত্যুতে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ,বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত,মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল্লাহ আল মামুন,দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি ও কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা,দৈনিক আজকের পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক জানিয়েছেন।এ ছাড়া ঢাকা ক্লাব লিমিটেড, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব),অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো)সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শোক প্রকাশ করেছে।ফরিদা বেগমের জানাজায় শরিক হয়ে সমবেদনা জানান দৈনিক আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন,রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, আগামীর সময়ের নির্বাহী সম্পাদক এহসানুল হক বাবু, স্থপতি রফিক আজম, অভিনেতা নাদের চৌধুরী,আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। জানাজায় রূপায়ণ গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।