আবারও বন্ধ এফএসআরইউ,বাড়ছে গ্যাস সংকট
বিশেষ প্রতিবেদক,দৈনিক প্রথম সকাল।
মেরামত করে চালু হওয়ার পর এবার এলএনজি সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল)।গত ১৭ ই আগস্ট এক কার্গো এলএনজি আসার কথা ছিল,না আসায় এই সংকট বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র।গ্যাস সংকট আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে।টেন্ডার প্রক্রিয়ার বাইরে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ৪ কার্গো এলএনজি আমদানির আদেশ দিয়েছিল রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)।যার একটি ১৭ আগস্ট দেশে আসার কথা ছিল। না আসায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গত তিন দিন ধরে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়।অদ্য বুধবার ১৯ শে আগস্ট বিকেলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত বন্ধ থাকছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে আগামীকাল টোটাল এনার্জির এক কার্গো এলএনজি আসার কথা।তবে সেটি সূচি অনুযায়ী সামিট গ্রুপ পরিচালিত টার্মিনালে ভেড়ানোর কথা।পরবর্তী কার্গো আসতে পারে ২৩ শে আগস্টের দিকে।ততদিন পর্যন্ত বন্ধ থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।তেমনটি হলে গ্যাস সরবরাহ ২৭০০ মিলিয়ন থেকে ২১০০ মিলিয়নে ঘনফুটে নেমে যাবে।গত ২১ জুলাই একটি এফএসআরইউ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পর থেকে কমবেশি ২০০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ হচ্ছিল।এতে করে সারাদেশে ভয়াবহ গ্যাস সংকট দেখা দেয়। ৬ আগস্ট আংশিক সরবরাহ শুরু করলে কিছুটা উন্নতি হচ্ছিল।কিন্তু বৃহস্পতিবার ১৩ ই আগস্ট গ্যাসের অভাবে সামিট গ্রুপের এফএসআরইউ থেকে সরবরাহ বন্ধ হলে পরিস্থিতি আরও জটিলতর হয়।
সামিটের এফএসআরইউ বন্ধের বিষয়ে প্রথমে সাগর উত্তাল থাকার কথা বলা হলেও দৃশ্যপট বলছে ভিন্ন কথা।সৌদি আরামকোর পাঠানো এলএনজিবাহী কার্গোটিকে "পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বলছে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট।তাই এটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি খালাসে অস্বীকৃতি জানায় তারা।যে কারণে ঐ কার্গোটি ফেরত পাঠাতে হয়েছে।
একদিকে যখন আমদানি যখন-তখন, দেশীয় উৎসের গ্যাসও প্রতিদিনই কমে যাচ্ছে।পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী ১৯ শে আগস্ট আমদানি করা হয়েছে মাত্র ৫৬১ মিলিয়ন ঘনফুট।আর দেশীয় উৎস থেকে উৎপাদন হয়েছে ১৬২৪ মিলিয়ন ঘনফুট,যা গত জুলাইয়ে ছিল ১৬৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট।যে কারণে সারাদেশে ভয়াবহ গ্যাস সংকট চলছে।আবাসিক থেকে শুরু করে সব জায়গায় দূর্ভোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এক সময়ে দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে দৈনিক ২৮০০ মিলিয়নের মতো গ্যাস উৎপাদিত হলেও এখন ১৬২৪ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে।মজুদ কমে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত কমে আসছে উৎপাদন।বেশি উদ্বেগের বিষয় বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার উৎপাদন কমে যাওয়া।ফিল্ডটি থেকে এখনও সাড়ে ৪৫ শতাংশের মতো গ্যাস সরবরাহ আসছে।আর কনডেনসেট পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৬৮ শতাংশ। এক সময়ে ১৩৫০ মিলিয়নের মতো উৎপাদন দিত,১৫ ই আগস্ট ৭৪০ মিলিয়নে নেমে গেছে।মজুদ কমে আসায় দ্রুতই কমে যাচ্ছে উৎপাদন। শঙ্কার হচ্ছে, যেকোনো সময়ে বড় ধরনের ধসের শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয় : অর্থনীতি
আপনার মতামত লিখুন