ঈশ্বরদীতে শিশুকে জিম্মি করে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ,ভাতিজা পলাতক
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম,ঈশ্বরদী,পাবনা।
গতকাল মঙ্গলবার ৩ রা নভেম্বর দুপুরে উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের একটি হলুদ ক্ষেতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে তাঁর আপন ভাসুরের ছেলে শিবলু মৃধাকে একমাত্র আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।অভিযুক্ত শিবলু মৃধা ছলিমপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. ইনছান মৃধার ছেলে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায় ঘটনার দিন মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৪টার দিকে ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী কাজের সন্ধানে মেহেরপুরের গাংনীর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। দুপুরে ওই গৃহবধূ প্রতিবেশী এক স্বজনের সঙ্গে বক্তারপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মাঠে ছাগল চরাতে যান। দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে অভিযুক্ত শিবলু মাঠে গিয়ে গৃহবধূকে জানান যে তাঁর ছোট ছেলের কোমরের নিচের অংশ কেটে রক্ত বের হচ্ছে।
সন্তানের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গৃহবধূ দ্রুত বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।পথিমধ্যে বক্তারপুর মধ্যপাড়া গ্রামের জনৈক হায়দারের হলুদের জমির কাছে পৌঁছালে শিবলু ধারালো হাসুয়া (দা) উঁচিয়ে শিশুকে মেরে ফেলার ভয় দেখান এবং গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।ভুক্তভোগী নারী জানান ঘটনার পরপরই তিনি অভিযুক্তের মা ও বোনকে বিষয়টি জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি।পরে তিনি মোবাইলে স্বামীকে বিষয়টি জানান। স্বামী মেহেরপুর থেকে ফিরে এলে পরিবারের স্বজনদের সাথে আলোচনা করে ঈশ্বরদী থানায় গিয়ে লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ জানান রাতে এক নারী ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় হাজির হন।অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একটি টিম অভিযানে নেমেছে।তিনি আরও জানান ভুক্তভোগী গৃহবধূকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

আপনার মতামত লিখুন