ঢাকা   রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক প্রথম সকাল

চা দোকানের কর্মচারী অপহরণের শিকার,মুক্তিপনের টাকা দেওয়ার পরও মেলেনি মুক্তি


| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

চা দোকানের কর্মচারী অপহরণের শিকার,মুক্তিপনের টাকা দেওয়ার পরও মেলেনি মুক্তি
চা দোকানের কর্মচারী অপহরণের শিকার,মুক্তিপনের টাকা দেওয়ার পরও মেলেনি মুক্তি

বিশেষ প্রতিবেদক,দৈনিক প্রথম সকাল। 

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মোঃ বাদশাহ (২৬) নামের এক চা দোকানের কর্মচারী অপহরণের শিকার হয়েছেন।মুক্তিপণ হিসেবে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।গতকাল শনিবার ৮ ই আগস্ট ভোর ৫টার দিকে বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হন তিনি।

অপহৃত মোঃ বাদশাহ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার মৃত সুলতান আহমদের ছেলে।তার পরিবারে স্ত্রী,সাত বছরের এক কন্যা ও দুই বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে।তিনি স্থানীয় রব বাজার চৌরাস্তা এলাকার ফারুক চা দোকানে কারিগর হিসেবে দৈনিক মজুরিতে কাজ করতেন।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে শনিবার ভোর ৫টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাসা থেকে দোকানের উদ্দেশে বের হন বাদশাহ।তবে সকাল গড়িয়ে বেলা হয়ে গেলেও তিনি দোকানে পৌঁছাননি।পরে দোকানের মালিক ফারুক হোসেন বাদশাহকে খুঁজতে তার বাসায় আসেন।সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে বাদশাহর শ্যালক মুনির হোসেন ফেসবুকে তার সন্ধান চেয়ে একটি পোস্ট দেন।

পোস্ট দেওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে অপরিচিত একটি নাম্বর থেকে ফোন করে বাদশাহর সন্ধান দেওয়ার কথা জানানো হয়।এ সময় তাকে ফিরে পেতে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।পরে ধারদেনা করে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত বাদশাহকে ফেরত দেওয়া হয়নি।এতে পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

বাদশাহর শ্যালক মুনির হোসেন জানান প্রথমে ঐ নাম্বর থেকে কল করে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়।একপর্যায়ে একটি বিকাশ নাম্বর দিলে স্বজনরা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঐ নাম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠান।টাকা পাওয়ার পর অপহরণকারীরা সন্ধ্যায় বাদশাহকে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে।তবে সন্ধ্যায় তাকে ফেরত না দিয়ে উলটোআরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করে চক্রটি।পরে স্বজনরা ঐ নাম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বাদশাহের বৃদ্ধা মা জহুরা খাতুন বলেন আমার বাজান ছাড়া পরিবারে আর কেউ উপার্জন করার নাই।ভোরে দোকানে যামু বলে ঘর থেকে বের হইল,আর ফিরা আসল না।আমরা কত কষ্ট করে ১০ হাজার টাকা দিলাম,তাও আমার পোলারে ছাড়ল না।এখন আবার ৩০ হাজার টাকা চায়।আমরা এত টাকা কই পামু? আমার বাজানরে ভালোয় ভালোয় আমার কোলে ফিরিয়ে দেন।কমলনগর থানার ওসি ফরিদুল আলম জানান এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় এসে কেউ কিছু জানায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় : সারাদেশ অপরাধ লক্ষীপুর চা

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক প্রথম সকাল

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


চা দোকানের কর্মচারী অপহরণের শিকার,মুক্তিপনের টাকা দেওয়ার পরও মেলেনি মুক্তি

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিশেষ প্রতিবেদক,দৈনিক প্রথম সকাল। 

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মোঃ বাদশাহ (২৬) নামের এক চা দোকানের কর্মচারী অপহরণের শিকার হয়েছেন।মুক্তিপণ হিসেবে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।গতকাল শনিবার ৮ ই আগস্ট ভোর ৫টার দিকে বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হন তিনি।

অপহৃত মোঃ বাদশাহ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার মৃত সুলতান আহমদের ছেলে।তার পরিবারে স্ত্রী,সাত বছরের এক কন্যা ও দুই বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে।তিনি স্থানীয় রব বাজার চৌরাস্তা এলাকার ফারুক চা দোকানে কারিগর হিসেবে দৈনিক মজুরিতে কাজ করতেন।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে শনিবার ভোর ৫টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাসা থেকে দোকানের উদ্দেশে বের হন বাদশাহ।তবে সকাল গড়িয়ে বেলা হয়ে গেলেও তিনি দোকানে পৌঁছাননি।পরে দোকানের মালিক ফারুক হোসেন বাদশাহকে খুঁজতে তার বাসায় আসেন।সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে বাদশাহর শ্যালক মুনির হোসেন ফেসবুকে তার সন্ধান চেয়ে একটি পোস্ট দেন।

পোস্ট দেওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে অপরিচিত একটি নাম্বর থেকে ফোন করে বাদশাহর সন্ধান দেওয়ার কথা জানানো হয়।এ সময় তাকে ফিরে পেতে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।পরে ধারদেনা করে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত বাদশাহকে ফেরত দেওয়া হয়নি।এতে পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

বাদশাহর শ্যালক মুনির হোসেন জানান প্রথমে ঐ নাম্বর থেকে কল করে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়।একপর্যায়ে একটি বিকাশ নাম্বর দিলে স্বজনরা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঐ নাম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠান।টাকা পাওয়ার পর অপহরণকারীরা সন্ধ্যায় বাদশাহকে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে।তবে সন্ধ্যায় তাকে ফেরত না দিয়ে উলটোআরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করে চক্রটি।পরে স্বজনরা ঐ নাম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বাদশাহের বৃদ্ধা মা জহুরা খাতুন বলেন আমার বাজান ছাড়া পরিবারে আর কেউ উপার্জন করার নাই।ভোরে দোকানে যামু বলে ঘর থেকে বের হইল,আর ফিরা আসল না।আমরা কত কষ্ট করে ১০ হাজার টাকা দিলাম,তাও আমার পোলারে ছাড়ল না।এখন আবার ৩০ হাজার টাকা চায়।আমরা এত টাকা কই পামু? আমার বাজানরে ভালোয় ভালোয় আমার কোলে ফিরিয়ে দেন।কমলনগর থানার ওসি ফরিদুল আলম জানান এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় এসে কেউ কিছু জানায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












দৈনিক প্রথম সকাল

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ কামাল আহমেদ 
বার্তা সম্পাদকঃ কাওসার হোসেন

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক প্রথম সকাল । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত