গানে গানে লালমনিরহাট: সূর্যমুখী সংগীত একাডেমির মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত
ফারুক আহমেদ সূর্য,জেলা করেসপন্ডেন্ট,লালমনিরহাট।
তিস্তা ও ধরলার পলিতে গড়া ইতিহাস আর হাজারো স্মৃতির মেলবন্ধন, সুরের আকাশে আজ লালমনিরহাট গাইবে ঐতিহ্যের জয়গান’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে লালমনিরহাটে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ‘গানে গানে লালমনিরহাট’।বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আর্থিক সহায়তা ও অনুদানে এবং সূর্যমুখী সংগীত একাডেমির আয়োজনে সীমান্ত জেলার লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে এ ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গত শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় লালমনিরহাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুপাড়া এলাকায় এ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। সূর্যাস্তের পর থেকেই সুরের মূর্চ্ছনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। গানে ও সুরে লালমনিরহাটের হারিয়ে যাওয়া লোকজ সংস্কৃতি, গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য শ্রোতাদের সামনে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলেন স্থানীয় উদীয়মান ও গুণী শিল্পীরা।
সূর্যমুখী সংগীত একাডেমির সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা কালচারাল অফিসার হামিদুর রহমান। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ফারুক আহমেদ সূর্যর সার্বিক সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীদের এক মিলনমেলায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা কালচারাল অফিসার হামিদুর রহমান বলেন তিস্তা ও ধরলা নদী বেষ্টিত এই সীমান্ত অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়।এই লোকজ ঐতিহ্যকে ধারণ ও লালন করা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এই সহযোগিতা স্থানীয় শিল্পীদের মেধা বিকাশ এবং জেলাভিত্তিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সংগঠনের মূল লক্ষ্য তুলে ধরে প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ফারুক আহমেদ সূর্য বলেন "লালমনিরহাটের হারানো সুর ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। সূর্যমুখী সংগীত একাডেমি লোকজ শিল্পীদের জন্য একটি শক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে প্রান্তিক পর্যায়ে এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য ও উপস্থিতি দিয়ে শোভা বাড়ান জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) লালমনিরহাট জেলা সভাপতি ও সংগঠক শামসুদ্দোহা বাবু, কবি ও সাহিত্যিক নিশিকান্ত রায়,শিল্পী ও সংগঠক শামিম আহমেদ, শিল্পী জেমস্ আশীষ দাস, সংগীত গবেষক আনোয়ার হোসেন বাচ্চু, সূর্যমুখী সংগীত একাডেমির সহ-সভাপতি জাভেদ শাহ্ এবং লেখক ও সংগঠক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শতেক সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের সমাগম ঘটে। স্থানীয় শিল্পীদের কণ্ঠে পরিবেশিত লালমনিরহাটের লোকজ ও ঐতিহ্যবাহী গান সীমান্ত অঞ্চলের সাংস্কৃতিক আবহকে এক অন্যরকম এক উচ্চতায় নিয়ে যায়।
বিষয় : সারাদেশ লালমনিরহাট
আপনার মতামত লিখুন