১ কোটি ৪০ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ,ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
মোঃ হাসান আলী,বালিয়াডাঙ্গী,ঠাকুরগাঁও।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের কাঁচকালী-হলদিবাড়ি হাট পাকা সড়ক সংস্কারকাজে নিম্নমানের ৩ নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।৩ হাজার ৩০০ মিটার দীর্ঘ সড়কটি সংস্কারে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয়ে চলমান এ কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায় সড়কটির দুই সাইডে প্রশস্তকরণের কাজে ব্যবহৃত খোয়ার অধিকাংশই ভঙ্গুর,মাটি মিশ্রিত,বড় বড় টুকরা ও নিম্নমানের। স্থানীয়দের অভিযোগ মানসম্মত ইটের খোয়ার পরিবর্তে ৩ নম্বর ইট ভেঙে তৈরি খোয়া সড়কে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সংস্কার কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার মোবারক আলী বলেন আমি সরকারের কাছ থেকে ১৪ টাকা দরে ইট ক্রয় করেছি। এই ইট না দিয়ে কি ফেলে দেবো নাকি?
তাঁকে ৩ নম্বর ইট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমাকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি বলেন আপনার কিছু জানার থাকলে উপজেলা কার্য-সহকারী আবু সুফিয়ানের কাছে জেনে নেন।তবে উপজেলা কার্য-সহকারী কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।বরাদ্দ কত এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন ৩ হাজার ৩শত মিটার রাস্তায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় পথচারী নবাব আলী বলেন, রাস্তায় ৩ নম্বর ইটের খোয়া দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। খোয়াগুলো দেখলেই বোঝা যায়, কয়েক বছর ইটভাটায় পড়ে ছিল। সেই খোয়াগুলো এখানে এনে কাজে লাগানো হচ্ছে। সরকারের বরাদ্দের টাকা এভাবে নষ্ট হলে দেশের উন্নয়ন হবে কীভাবে?কাঁচকালী বাজারের দোকানদার জয়নাল বলেন, যে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে কাজ করা হচ্ছে, তাতে এক বছর যেতে না যেতেই রাস্তা উঠে আবার নষ্ট হয়ে যাবে। আশা করছি, উপজেলা প্রকৌশলী দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন পর সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁরা আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু সংস্কারকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠায় তাঁদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা,যথাযথ মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন না হলে সরকারি অর্থ ব্যয় করেও দীর্ঘস্থায়ী সুফল পাওয়া যাবে না।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহাজান আলী বলেন, ৩ নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহার করার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমি সাইডে গিয়ে কাজ দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রকৌশলী মাসুদুল আলম বলেন, ৩ নম্বর ইটের খোয়া দিয়ে কাজ করলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে সংস্কারকাজের গুণগত মান যাচাই করুক। পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন