"১০ মাস ১০ দিন তোকে পেটে ধরছি,আজ তুই আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলি"
বিশেষ প্রতিবেদক,দৈনিক প্রথম সকাল।
এক হাতে পবিত্র কোরআন শরিফ,অন্য হাতে চোখের জল মুছতে মুছতে স্বামীর বসতভিটা থেকে বের হয়ে আসছিলেন ৬৫ বছর বয়সি রাশেদা বেগম। নিজের সম্পত্তি একমাত্র ছেলের নামে লিখে না দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ছেলের চাপ ও বিরোধের মুখে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে ভাইদের সঙ্গে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছে এই বৃদ্ধাকে।জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের গেন্দারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অদ্য মঙ্গলবার ৭ ই জুলাই ঐ বৃদ্ধার বাড়ি থেকে বের হয়ে আসার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় বুকে পবিত্র কোরআন শরিফ জড়িয়ে ধরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসছেন রাশেদা বেগম। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায় "১০ মাস ১০ দিন তোকে পেটে ধরছি,আজ তুই আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলি" আমি তোদের জন্য কী করি নাই? আল্লাহ,তুমি এর বিচার আগে করবা।আজকে তুই আমারে সম্পত্তির জন্যে, টাকার জন্যে বের করলি? সম্পত্তি, টাকা কোনোদিনই মা হয় না।মা একদিকে, টাকা একদিকে।আল্লাহ,তুমি এদের বিচারটা আগে করবা।ওদের বুঝ দিও আল্লাহ।আমি ৫০ বছর ধরে এই বাড়িতে আইছি। গতকাল থেকে আমার খাওয়া নাই,আমার ঘুম নাই"।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে গেন্দারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত মোজাম্মেল হক গুঠু তালুকদারের দ্বিতীয় স্ত্রী রাশেদা বেগম স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করতেন।তার একমাত্র ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির স্ত্রীকে নিয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুরে শ্বশুর বাড়িতে থাকেন।রাশেদা বেগম ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া ৫৬ শতাংশ জমি প্রায় ৮ লাখ টাকায় নিজের ভাইদের কাছে বিক্রি করেন এবং পরে সেই অর্থ দিয়ে অন্য জায়গায় নিজের নামে জমি কেনেন।
অভিযোগ রয়েছে এ নিয়েই মা-ছেলের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।ছেলে ওই সম্পত্তি তার নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য মাকে বিভিন্ন সময় চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। সর্বশেষ গত রোববার সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য ফের চাপ দেওয়া হলে রাশেদা বেগম রাজি হননি।এরপর তাকে মানসিকভাবে চরম নির্যাতন করে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়।পরে খবর পেয়ে তার ভাইয়েরা এসে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন