ঢাকা   বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক প্রথম সকাল

আদালতে নারী আইনজীবী'কে হেনস্থা,ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে বিএনপির আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ


| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

আদালতে নারী আইনজীবী'কে হেনস্থা,ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে বিএনপির আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
আদালতে নারী আইনজীবী'কে হেনস্থা,ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে বিএনপির আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

আদালত প্রতিবেদক। 

ঢাকার নিম্ন আদালতে মামলার শুনানী কালীন সময় অ্যাডভোকেট সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদা নামের এক নারী আইনজীবী'কে হেনস্তা,অশালীন আচরণ,হুমকি ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।এই ঘটনার প্রতিকার এবং পেশাগত সুরক্ষার দাবি জানিয়ে অভিযুক্ত বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীর বিরুদ্ধে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বরাবর আজ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আইনজীবী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায় গতকাল ৩১ শে আগস্ট ২০২৬ ইং সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টা ২৪ মিনিটে সিএমএম আদালত-১৯ এর এজলাসে সিএমএম আদালত-২ এর বিজ্ঞ বিচারক জাকির হোসেনের সামনে একটি মামলার শুনানি শুরু অ্যাডভোকেট সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদা।এসময় ঢাকা বার ইউনিটের জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহবায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম,অ্যাডভোকেট রায়হান গাজী নয়ন,শিক্ষা নবিশ আইনজীবী জহিরুল ইসলাম,আইনজীবী সহকারী সজীবসহ আইনজীবী ফিদার চেম্বারের সংশ্লিষ্ট লোকজন উপস্থিত ছিলেন।শুনানি শুরুর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মাথায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম,ঢাকা ইউনিটের আহবায়ক অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম দলবল নিয়ে আদালতে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন।

অভিযোগে বলা হয় বিএনপির ওই নেতা নারী আইনজীবী'কে উদ্দেশ্য করে অপদস্থমূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলতে থাকেন "ও সরকারের বিরুদ্ধে লেখে,ও ফ্যাসিস্ট, ও স্বৈরাচার,ও কিভাবে শুনানি করে? ওকে বের করে দাও, ওকে প্র্যাকটিস করতে দেওয়া যাবে না।প্রকাশ্য এজলাসে বিচারকের সামনে এভাবে বাকসংযম হারিয়ে শুনানিতে বাঁধা সৃষ্টির ঘটনাটি উপস্থিত অন্যান্য আইনজীবী ও আদালতের পরিবেশ কে চরমভাবে বিব্রত করে।

ভুক্তভোগী আইনজীবী অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন পূর্বেও বিভিন্ন সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের প্রভাবশালী অবস্থানের সুযোগ নিয়ে তাকে পেশাগতভাবে বিব্রত করেছেন।তবে সিএমএম আদালতে বিচারকের উপস্থিতিতে সংঘটিত এই ঘটনাটি আইন পেশার সম্মান, সহকর্মিতার নীতি ও আদালতের শৃঙ্খলা রক্ষার পরিপন্থী।একজন নারী আইনজীবী হিসেবে নিজের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে পেশা পরিচালনা করা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আজ ১ লা সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং মঙ্গলবার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সমিতি থেকে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর শৃঙ্খলা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।অনুসন্ধানে জানা গেছে মামলার আসামি ঢাকার নবাব পরিবারের সন্তান এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কমিশনার খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিব এক সময় অন‍্য একটি মামলায় এডভোকেট খোরশেদ আলমের মক্কেল ছিলেন।

পরবর্তীতে তিনি এডভোকেট সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদা কে আইনজীবী নিয়োগ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে এই ঘটনার জন্ম দেন এডভোকেট খোরশেদ আলম।এসময় তার সাথে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, ঢাকা বার ইউনিটের সদস্য সচিব এডভোকেট নিহার হোসেন ফারুক সহ আরও কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।এর আগে গত বছরের ১৭ ই মে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলার শুনানির সময় “অপেশাদারিত্ব মূলক” আচরণ করে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটের আহবায়ক অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলমসহ চারজন আইনজীবী'কে সেই বছরের ১৮ মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো.জিয়াউর রহমান।এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন বলে অভিযোগ করেন সাধারণ আইনজীবীরা ।

ভুক্তভোগী আইনজীবী সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদা নিজেকে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির একজন আন্দোলনকারী এবং দেশের সার্বিক অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, “রাজনৈতিক বানোয়াট তকমা দিয়ে একজন নারী আইনজীবী হিসেবে আমাকে হেনস্থা করা এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করে দূর্বল করার উদ্দেশ্যেই খোরশেদ আলম এই হট্টগোল সৃষ্টি করেন।বিচারালয়ের ভেতরে এমন আচরণের কারণে বিজ্ঞ আদালত বিব্রতবোধ করেন এবং পুরো বিষয়টি প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটের আহবায়ক অ্যাডভোকেট  খোরশেদ আলম বলেন “আমাদের দলের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে ফ‍্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদের মামলায় আদালতে লড়াই করা থেকে বিরত থাকতে কিন্তু ফিদার আইনজীবীরা ফ‍্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের মামলা পরিচালনা করছেন শুনে আমাদের আইনজীবীরা তাদের কে বাঁধা দিতে যান।

তিনি এসময় অভিযোগকারী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে নানা বিরূপ মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন “মামলার আসামি ঢাকার নবাব পরিবারের সন্তান এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কমিশনার খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিব এক সময় আমার মক্কেল ছিলেন।তার শ্বশুর ফিরোজুর রহমান অলিও আমার এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন।ফলে তিনি খাজা হাবিব এখন আওয়ামী লীগের দোসর। তার এই বক্তব্যের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। অনুসন্ধানে দেখা গেছে খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিব ১৯৮৬ সালে ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের খায়ের-পিন্টু কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। পিন্টু নীরব কমিটিতে ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। 

তিনি ১৯৯৪ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে কমিশনার নির্বাচিত হন।পরে ঢাকা মহানগর বিএনপি’র খোকা-সালাম কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সাবেক রমনা থানা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ২০০২ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কমিশনার নির্বাচিত হন।  তিনি ২০১৫ এবং ২০২০ সালে বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। 

বিএনপি'র প্রার্থী হওয়ার কারণে প্রহসনমূলক নির্বাচনে তার বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খাজা হাবিব। এ বিষয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মোঃ আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া জানান “আমরা আইনজীবীরা একটি পরিবারের মতোই। এটা আমাদের অভ‍্যন্তরীণ বিষয়।এই বিষয়ে আমি মিডিয়ার সামনে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

বিষয় : সারাদেশ আদালত আইনজীবী সমিতি

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক প্রথম সকাল

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আদালতে নারী আইনজীবী'কে হেনস্থা,ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে বিএনপির আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

আদালত প্রতিবেদক। 

ঢাকার নিম্ন আদালতে মামলার শুনানী কালীন সময় অ্যাডভোকেট সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদা নামের এক নারী আইনজীবী'কে হেনস্তা,অশালীন আচরণ,হুমকি ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।এই ঘটনার প্রতিকার এবং পেশাগত সুরক্ষার দাবি জানিয়ে অভিযুক্ত বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীর বিরুদ্ধে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বরাবর আজ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আইনজীবী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায় গতকাল ৩১ শে আগস্ট ২০২৬ ইং সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টা ২৪ মিনিটে সিএমএম আদালত-১৯ এর এজলাসে সিএমএম আদালত-২ এর বিজ্ঞ বিচারক জাকির হোসেনের সামনে একটি মামলার শুনানি শুরু অ্যাডভোকেট সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদা।এসময় ঢাকা বার ইউনিটের জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহবায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম,অ্যাডভোকেট রায়হান গাজী নয়ন,শিক্ষা নবিশ আইনজীবী জহিরুল ইসলাম,আইনজীবী সহকারী সজীবসহ আইনজীবী ফিদার চেম্বারের সংশ্লিষ্ট লোকজন উপস্থিত ছিলেন।শুনানি শুরুর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মাথায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম,ঢাকা ইউনিটের আহবায়ক অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম দলবল নিয়ে আদালতে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন।

অভিযোগে বলা হয় বিএনপির ওই নেতা নারী আইনজীবী'কে উদ্দেশ্য করে অপদস্থমূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলতে থাকেন "ও সরকারের বিরুদ্ধে লেখে,ও ফ্যাসিস্ট, ও স্বৈরাচার,ও কিভাবে শুনানি করে? ওকে বের করে দাও, ওকে প্র্যাকটিস করতে দেওয়া যাবে না।প্রকাশ্য এজলাসে বিচারকের সামনে এভাবে বাকসংযম হারিয়ে শুনানিতে বাঁধা সৃষ্টির ঘটনাটি উপস্থিত অন্যান্য আইনজীবী ও আদালতের পরিবেশ কে চরমভাবে বিব্রত করে।

ভুক্তভোগী আইনজীবী অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন পূর্বেও বিভিন্ন সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের প্রভাবশালী অবস্থানের সুযোগ নিয়ে তাকে পেশাগতভাবে বিব্রত করেছেন।তবে সিএমএম আদালতে বিচারকের উপস্থিতিতে সংঘটিত এই ঘটনাটি আইন পেশার সম্মান, সহকর্মিতার নীতি ও আদালতের শৃঙ্খলা রক্ষার পরিপন্থী।একজন নারী আইনজীবী হিসেবে নিজের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে পেশা পরিচালনা করা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আজ ১ লা সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং মঙ্গলবার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সমিতি থেকে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর শৃঙ্খলা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।অনুসন্ধানে জানা গেছে মামলার আসামি ঢাকার নবাব পরিবারের সন্তান এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কমিশনার খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিব এক সময় অন‍্য একটি মামলায় এডভোকেট খোরশেদ আলমের মক্কেল ছিলেন।

পরবর্তীতে তিনি এডভোকেট সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদা কে আইনজীবী নিয়োগ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে এই ঘটনার জন্ম দেন এডভোকেট খোরশেদ আলম।এসময় তার সাথে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, ঢাকা বার ইউনিটের সদস্য সচিব এডভোকেট নিহার হোসেন ফারুক সহ আরও কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।এর আগে গত বছরের ১৭ ই মে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলার শুনানির সময় “অপেশাদারিত্ব মূলক” আচরণ করে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটের আহবায়ক অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলমসহ চারজন আইনজীবী'কে সেই বছরের ১৮ মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো.জিয়াউর রহমান।এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন বলে অভিযোগ করেন সাধারণ আইনজীবীরা ।

ভুক্তভোগী আইনজীবী সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদা নিজেকে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির একজন আন্দোলনকারী এবং দেশের সার্বিক অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, “রাজনৈতিক বানোয়াট তকমা দিয়ে একজন নারী আইনজীবী হিসেবে আমাকে হেনস্থা করা এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করে দূর্বল করার উদ্দেশ্যেই খোরশেদ আলম এই হট্টগোল সৃষ্টি করেন।বিচারালয়ের ভেতরে এমন আচরণের কারণে বিজ্ঞ আদালত বিব্রতবোধ করেন এবং পুরো বিষয়টি প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটের আহবায়ক অ্যাডভোকেট  খোরশেদ আলম বলেন “আমাদের দলের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে ফ‍্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদের মামলায় আদালতে লড়াই করা থেকে বিরত থাকতে কিন্তু ফিদার আইনজীবীরা ফ‍্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের মামলা পরিচালনা করছেন শুনে আমাদের আইনজীবীরা তাদের কে বাঁধা দিতে যান।

তিনি এসময় অভিযোগকারী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে নানা বিরূপ মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন “মামলার আসামি ঢাকার নবাব পরিবারের সন্তান এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কমিশনার খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিব এক সময় আমার মক্কেল ছিলেন।তার শ্বশুর ফিরোজুর রহমান অলিও আমার এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন।ফলে তিনি খাজা হাবিব এখন আওয়ামী লীগের দোসর। তার এই বক্তব্যের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। অনুসন্ধানে দেখা গেছে খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিব ১৯৮৬ সালে ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের খায়ের-পিন্টু কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। পিন্টু নীরব কমিটিতে ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। 

তিনি ১৯৯৪ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে কমিশনার নির্বাচিত হন।পরে ঢাকা মহানগর বিএনপি’র খোকা-সালাম কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সাবেক রমনা থানা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ২০০২ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কমিশনার নির্বাচিত হন।  তিনি ২০১৫ এবং ২০২০ সালে বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। 

বিএনপি'র প্রার্থী হওয়ার কারণে প্রহসনমূলক নির্বাচনে তার বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খাজা হাবিব। এ বিষয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মোঃ আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া জানান “আমরা আইনজীবীরা একটি পরিবারের মতোই। এটা আমাদের অভ‍্যন্তরীণ বিষয়।এই বিষয়ে আমি মিডিয়ার সামনে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।









দৈনিক প্রথম সকাল

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ কামাল আহমেদ 
বার্তা সম্পাদকঃ কাওসার হোসেন

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক প্রথম সকাল । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত