তারাগঞ্জে অজ্ঞাত যানের ধাক্কায় নারীর নির্মম মৃত্যু
মোঃ রুবেল ইসলাম তারাগঞ্জ,রংপুর
কুয়াশা জড়ানো ভোররাতে যখন চারদিক নিস্তব্ধ,যখন মানুষ নতুন একটি দিনের আলো দেখার অপেক্ষায় মগ্ন, ঠিক তখনই মহাসড়কে ঝরে গেল আরেকটি প্রাণ।রংপুরের তারাগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার নির্মম মৃত্যুর শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কুলসুম (৫০) বছর বয়সী মানসিক ভারসাম্যহীন নারী।চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেছে তার সেই চেনা-অচেনা ভুবন।গতকাল ১৩ ই সেপ্টেম্বর ভোরে রংপুর জেলার তারাগঞ্জ থানাধীন বৈরাতি ব্রিজের পশ্চিমে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের ওপর এই হৃদয় বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। কোনো এক অজ্ঞাত দ্রুতগামী যানবাহন তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়।রক্তাক্ত অবস্থায় মহাসড়কেই পড়ে থাকে তার নিথর দেহ।
ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে আসে তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার একটি মোবাইল টিম।তারা মহাসড়ক থেকে ছিন্নভিন্ন ও রক্তাক্ত মৃতদেহটি উদ্ধার করে পুলিশের হেফাজতে নিয়ে যান এবং রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক করেন। হয়তো এই পৃথিবীর বুকে তার আপন বলতে কেউ ছিল না,কিংবা থেকেও সে ছিল সবার থেকে দূরে। একাকী ও ভবঘুরে জীবনের করুণ সমাপ্তি ঘটল পিচঢালা কালো রাস্তায়।
তবে মৃত্যুর পরও তার পরিচয় যেন হারিয়ে না যায় সেজন্য তৎপরতা দেখায় প্রশাসন। পরবর্তীতে রংপুর সিআইডির (CID) ক্রাইম সিন ইনভেস্টিগেশন টিম তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানায় হাজির হয়। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিবিড় পরীক্ষার মাধ্যমে অবশেষে উদ্ধার করা সম্ভব হয় এই অভাগী নারীর আসল পরিচয়। জানা যায় তার বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারি উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের মোগর আলী মেয়ে কুলসুম। মৃত্যুর পর অবসান ঘটে তার "অজ্ঞাতনামা" পরিচয়ের।
তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জের (OC) মাধ্যমে খবরটি নিহতের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।যে মানুষটি হয়তো একদিন আপনজনদের ছেড়ে হারিয়ে গিয়েছিল মায়ার টানে বা মানসিক যন্ত্রণায়,আজ সে ফিরছে লাশ হয়ে।এই নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় সড়ক ও পরিবহন আইন, ২০১৮-এর বিধান অনুযায়ী একটি নিয়মিত মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।ঘাতক যান ও তার চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে আইনি প্রক্রিয়া যতই চলুক, যে প্রাণটি অকালে ঝরে গেল,তা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।

আপনার মতামত লিখুন