ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক প্রথম সকাল

ঢাকায় হত্যার পর তার মরদেহ নীলফামারীরতে মাটিচাপা,মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ


| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ঢাকায় হত্যার পর তার মরদেহ নীলফামারীরতে মাটিচাপা,মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ
ঢাকায় হত্যার পর তার মরদেহ নীলফামারীরতে মাটিচাপা,মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

মোঃ আবদুল হামিদ সরকার,নীলফামারী। 

ঢাকায় নিজ কক্ষে রাকিব ইসলাম (১৭) নামে এক কিশোরকে হত্যার পর তার মরদেহ কার্টনে ভরে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নিজ গ্রামে এনে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল্লাহ মামুন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।হত্যার পর ঢাকায় ফিরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে রাকিবকে জীবিত দেখিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে পরিবারের কাছে পাঠানোর পাশাপাশি মুক্তিপণ দাবির অভিযোগও রয়েছে।পরে মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিমলার ছাতনাই বালাপাড়া এলাকা থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত রাকিব ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হামনগর ইউনিয়নের উদ্যমপুর গ্রামের খাদেমুল ইসলামের দ্বিতীয় ছেলে।অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ মামুন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া এলাকার আফসার আলীর ছেলে।নিহতের ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন জানান রাকিবকে জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে আব্দুল্লাহ মামুন কয়েক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।ভাইকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দিলেও রাকিবকে আর ফেরত দেওয়া হয়নি। পরে বিষয়টি জানিয়ে রাকিবের পরিবার ঢাকার কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।তদন্তের একপর্যায়ে গত ৩ রা অক্টোবর ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল্লাহ মামুনকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গেছে।পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে রাকিব হত্যার বিষয়টি সামনে আসে।মামুনকে গ্রেফতারের পর রাকিবের পরিবারের পক্ষ থেকে কাফরুল থানায় মামলা করা হয়। মামলাটির ডিএমপি মামলা নম্বর-০৫,তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামুনকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতনাই বালাপাড়া এলাকায় নিয়ে আসা হয়। তার দেখানো স্থান অনুযায়ী রাকিবের মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার জায়গা শনাক্ত করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে ৬ অক্টোবর দুপুর ১টার দিকে ওই স্থান থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর মরদেহটি ডিমলা থানায় নেওয়া হয়।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার শুক্রাবাদে রাকিবের সঙ্গে আব্দুল্লাহ মামুনের পরিচয় হয়।পরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে।মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ১৬ ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার একটি কক্ষে দুজনের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।একপর্যায়ে রাকিবকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশকে জানিয়েছেন মামুন।মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর রাকিবের মরদেহ একটি কার্টনের মধ্যে ভরে বাসা থেকে বের হন তিনি।পরে ঢাকার কল্যাণপুরে গিয়ে রংপুরগামী একটি গাড়িতে উঠেন।পথে কার্টনের ভেতরে কি রয়েছে জানতে চাইলে সেটিতে ইলিশ মাছ রয়েছে বলে জানান তিনি।রংপুরে পৌঁছানোর পর লোকাল বাসে করে ডিমলায় আসেন মামুন।পরে মরদেহটি নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে কার্টনসহ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় রতন (২৬) ও নুর জামাল (২৫) নামে আরও দুই ব্যক্তির জড়িত থাকার তথ্য মামুনের কাছ থেকে পাওয়া গেছে বলেও জানা গেছে।তবে তাদের সম্পৃক্ততার ধরন ও ঘটনার সঙ্গে তাদের ভূমিকা কী ছিল, তা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।ঘটনার আরেকটি চাঞ্চল্যকর দিক হলো-রাকিবকে হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে জীবিত দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে রাকিব জীবিত রয়েছে-এমন বিশ্বাস তৈরি করে মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দিলেও শেষ পর্যন্ত রাকিবকে ফিরে পায়নি।

মরদেহ উদ্ধারের পর রাকিবের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।দীর্ঘদিন ধরে ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় থাকা স্বজনেরা এখন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।তবে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছরিয়েছে সে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নায়।ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাফরুল থানায় একটি মামলা হয়েছে।মামলার আসামিকে গ্রেফতারের পর মরদেহ উদ্ধারে ডিমলা থানা পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়।পরে ডিমলা থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধারে সহযোগিতা করে।উদ্ধার করা মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে রাকিব হত্যার পেছনে প্রকৃত কারণ কি, মুক্তিপণের টাকা কিভাবে লেনদেন হয়েছে,এআই প্রযুক্তিতে ভিডিও তৈরির সঙ্গে কারা জড়িত এবং রতন ও নুর জামালসহ অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না-এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে ঘটনার আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

বিষয় : রংপুর নীলফামারী যুবক

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক প্রথম সকাল

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


ঢাকায় হত্যার পর তার মরদেহ নীলফামারীরতে মাটিচাপা,মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মোঃ আবদুল হামিদ সরকার,নীলফামারী। 

ঢাকায় নিজ কক্ষে রাকিব ইসলাম (১৭) নামে এক কিশোরকে হত্যার পর তার মরদেহ কার্টনে ভরে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নিজ গ্রামে এনে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল্লাহ মামুন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।হত্যার পর ঢাকায় ফিরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে রাকিবকে জীবিত দেখিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে পরিবারের কাছে পাঠানোর পাশাপাশি মুক্তিপণ দাবির অভিযোগও রয়েছে।পরে মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিমলার ছাতনাই বালাপাড়া এলাকা থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত রাকিব ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হামনগর ইউনিয়নের উদ্যমপুর গ্রামের খাদেমুল ইসলামের দ্বিতীয় ছেলে।অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ মামুন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া এলাকার আফসার আলীর ছেলে।নিহতের ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন জানান রাকিবকে জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে আব্দুল্লাহ মামুন কয়েক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।ভাইকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দিলেও রাকিবকে আর ফেরত দেওয়া হয়নি। পরে বিষয়টি জানিয়ে রাকিবের পরিবার ঢাকার কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।তদন্তের একপর্যায়ে গত ৩ রা অক্টোবর ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল্লাহ মামুনকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গেছে।পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে রাকিব হত্যার বিষয়টি সামনে আসে।মামুনকে গ্রেফতারের পর রাকিবের পরিবারের পক্ষ থেকে কাফরুল থানায় মামলা করা হয়। মামলাটির ডিএমপি মামলা নম্বর-০৫,তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামুনকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতনাই বালাপাড়া এলাকায় নিয়ে আসা হয়। তার দেখানো স্থান অনুযায়ী রাকিবের মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার জায়গা শনাক্ত করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে ৬ অক্টোবর দুপুর ১টার দিকে ওই স্থান থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর মরদেহটি ডিমলা থানায় নেওয়া হয়।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার শুক্রাবাদে রাকিবের সঙ্গে আব্দুল্লাহ মামুনের পরিচয় হয়।পরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে।মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ১৬ ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার একটি কক্ষে দুজনের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।একপর্যায়ে রাকিবকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশকে জানিয়েছেন মামুন।মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর রাকিবের মরদেহ একটি কার্টনের মধ্যে ভরে বাসা থেকে বের হন তিনি।পরে ঢাকার কল্যাণপুরে গিয়ে রংপুরগামী একটি গাড়িতে উঠেন।পথে কার্টনের ভেতরে কি রয়েছে জানতে চাইলে সেটিতে ইলিশ মাছ রয়েছে বলে জানান তিনি।রংপুরে পৌঁছানোর পর লোকাল বাসে করে ডিমলায় আসেন মামুন।পরে মরদেহটি নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে কার্টনসহ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় রতন (২৬) ও নুর জামাল (২৫) নামে আরও দুই ব্যক্তির জড়িত থাকার তথ্য মামুনের কাছ থেকে পাওয়া গেছে বলেও জানা গেছে।তবে তাদের সম্পৃক্ততার ধরন ও ঘটনার সঙ্গে তাদের ভূমিকা কী ছিল, তা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।ঘটনার আরেকটি চাঞ্চল্যকর দিক হলো-রাকিবকে হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে জীবিত দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে রাকিব জীবিত রয়েছে-এমন বিশ্বাস তৈরি করে মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দিলেও শেষ পর্যন্ত রাকিবকে ফিরে পায়নি।

মরদেহ উদ্ধারের পর রাকিবের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।দীর্ঘদিন ধরে ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় থাকা স্বজনেরা এখন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।তবে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছরিয়েছে সে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নায়।ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাফরুল থানায় একটি মামলা হয়েছে।মামলার আসামিকে গ্রেফতারের পর মরদেহ উদ্ধারে ডিমলা থানা পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়।পরে ডিমলা থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধারে সহযোগিতা করে।উদ্ধার করা মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে রাকিব হত্যার পেছনে প্রকৃত কারণ কি, মুক্তিপণের টাকা কিভাবে লেনদেন হয়েছে,এআই প্রযুক্তিতে ভিডিও তৈরির সঙ্গে কারা জড়িত এবং রতন ও নুর জামালসহ অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না-এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে ঘটনার আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।










দৈনিক প্রথম সকাল

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ কামাল আহমেদ 
বার্তা সম্পাদকঃ কাওসার হোসেন
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক প্রথম সকাল । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত