ঢাকা   সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
দৈনিক প্রথম সকাল

৫০ কেজির "বীজ" পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বীজের বিস্ময়কর গল্প


| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

৫০ কেজির "বীজ" পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বীজের বিস্ময়কর গল্প
৫০ কেজির "বীজ" পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বীজের বিস্ময়কর গল্প

বিশেষ প্রতিনিধি,দৈনিক প্রথম সকাল।

বিশ্বাস করা কঠিন হলেও সত্যি-পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বীজের ওজন প্রায় ৫০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।এই বিরল বীজের নাম কোকো দে মের (Coco de Mer)। আকার-আকৃতিতে এটি এতটাই বিশাল যে অনেক সময় একটি ছোট শিশুর ওজনকেও ছাড়িয়ে যায়।এই বীজ পৃথিবীর আর কোথাও স্বাভাবিকভাবে জন্মায় না। এটি শুধুমাত্র ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র Seychelles-এর দুটি দ্বীপ-Vallée de Mai Nature Reserve এবং Curieuse Island-এ জন্মানো Lodoicea maldivica নামের বিশেষ প্রজাতির পামগাছে উৎপন্ন হয়।

কোকো দে মেরকে ঘিরে রয়েছে এক রহস্যময় ইতিহাস। বহু শতাব্দী আগে মানুষ এই গাছের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে জানত না। মাঝে মাঝে বিশাল এই বীজ সমুদ্রে ভেসে মালদ্বীপসহ ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন উপকূলে পৌঁছে যেত।তখন অনেকেই বিশ্বাস করতেন, সমুদ্রের গভীরে কোনো অলৌকিক গাছ রয়েছে এবং সেখান থেকেই এই অদ্ভুত বীজের উৎপত্তি। সেই ধারণা থেকেই এর নাম হয় Coco de Mer,যার অর্থ “সমুদ্রের নারকেল"।

এই গাছের জীবনচক্রও অত্যন্ত ধীর।একটি ফলের ভেতরের বীজ সম্পূর্ণ পরিপক্ব হতে সাধারণত ৬–৭ বছর সময় লাগে। আর একটি গাছে প্রথম ফল ধরতে লেগে যেতে পারে ২০ থেকে ৪০ বছর। তবে একবার পূর্ণবয়স্ক হলে এসব গাছ শত শত বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।এক সময় ইউরোপীয় রাজপরিবার ও অভিজাতদের কাছে কোকো দে মের ছিল অত্যন্ত মূল্যবান সংগ্রহযোগ্য বস্তু।এর শক্ত খোলস সোনা, রূপা ও মূল্যবান রত্ন দিয়ে অলংকৃত করে রাজা-সম্রাট এবং ধনীদের জন্য বিলাসবহুল উপহার হিসেবেব্যবহার করা হতো।

বর্তমানে কোকো দে মের একটি সংরক্ষিত ও বিরল প্রজাতি।এর প্রাকৃতিক বিস্তার খুবই সীমিত হওয়ায় সেশেলস সরকার এর সংগ্রহ ও রপ্তানির উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে,যাতে এই অনন্য উদ্ভিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত থাকে। 

বিষয় : তথ্য বীজ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক প্রথম সকাল

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬


৫০ কেজির "বীজ" পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বীজের বিস্ময়কর গল্প

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

বিশেষ প্রতিনিধি,দৈনিক প্রথম সকাল।

বিশ্বাস করা কঠিন হলেও সত্যি-পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বীজের ওজন প্রায় ৫০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।এই বিরল বীজের নাম কোকো দে মের (Coco de Mer)। আকার-আকৃতিতে এটি এতটাই বিশাল যে অনেক সময় একটি ছোট শিশুর ওজনকেও ছাড়িয়ে যায়।এই বীজ পৃথিবীর আর কোথাও স্বাভাবিকভাবে জন্মায় না। এটি শুধুমাত্র ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র Seychelles-এর দুটি দ্বীপ-Vallée de Mai Nature Reserve এবং Curieuse Island-এ জন্মানো Lodoicea maldivica নামের বিশেষ প্রজাতির পামগাছে উৎপন্ন হয়।

কোকো দে মেরকে ঘিরে রয়েছে এক রহস্যময় ইতিহাস। বহু শতাব্দী আগে মানুষ এই গাছের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে জানত না। মাঝে মাঝে বিশাল এই বীজ সমুদ্রে ভেসে মালদ্বীপসহ ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন উপকূলে পৌঁছে যেত।তখন অনেকেই বিশ্বাস করতেন, সমুদ্রের গভীরে কোনো অলৌকিক গাছ রয়েছে এবং সেখান থেকেই এই অদ্ভুত বীজের উৎপত্তি। সেই ধারণা থেকেই এর নাম হয় Coco de Mer,যার অর্থ “সমুদ্রের নারকেল"।

এই গাছের জীবনচক্রও অত্যন্ত ধীর।একটি ফলের ভেতরের বীজ সম্পূর্ণ পরিপক্ব হতে সাধারণত ৬–৭ বছর সময় লাগে। আর একটি গাছে প্রথম ফল ধরতে লেগে যেতে পারে ২০ থেকে ৪০ বছর। তবে একবার পূর্ণবয়স্ক হলে এসব গাছ শত শত বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।এক সময় ইউরোপীয় রাজপরিবার ও অভিজাতদের কাছে কোকো দে মের ছিল অত্যন্ত মূল্যবান সংগ্রহযোগ্য বস্তু।এর শক্ত খোলস সোনা, রূপা ও মূল্যবান রত্ন দিয়ে অলংকৃত করে রাজা-সম্রাট এবং ধনীদের জন্য বিলাসবহুল উপহার হিসেবেব্যবহার করা হতো।

বর্তমানে কোকো দে মের একটি সংরক্ষিত ও বিরল প্রজাতি।এর প্রাকৃতিক বিস্তার খুবই সীমিত হওয়ায় সেশেলস সরকার এর সংগ্রহ ও রপ্তানির উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে,যাতে এই অনন্য উদ্ভিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত থাকে। 







দৈনিক প্রথম সকাল

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ কামাল আহমেদ 
বার্তা সম্পাদকঃ কাওসার হোসেন

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক প্রথম সকাল । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত