কুড়িগ্রামে এগিয়ে চলছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি,বাড়ছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও মনোযোগ
মোঃজাহিদুল ইসলাম,ভুরুঙ্গামারী,কুড়িগ্রাম।
শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও মনোযোগ বাড়ানো, ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার পরিবেশে শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কুড়িগ্রামে এগিয়ে চলছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি।জানা গেছে কুড়িগ্রাম জেলার ৫টি উপজেলা,কুড়িগ্রাম সদর,নাগেশ্বরী,ভুরুঙ্গামারী,রাজারহাট ও চিলমারীতে এ স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।এর আওতায় মোট ৬৫৩ টি বিদ্যালয়ে ৯৭ হাজার ৯৮ জন শিক্ষার্থী খাবার পাচ্ছে ।সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) বনরুটি,সিদ্ধ ডিম ও কলা সরবরাহের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক স্কুলে ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ।সিদ্ধ ডিম ও কলা সরবরাহ করার জন্য ৫৬৬ জন স্কুল মাদার নির্বাচন করা হয়েছে। যা তাদের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ঘুরে দেখা গেছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির পুষ্টিকর টিফিনে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়া রোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী,শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে এই কর্মসূচি ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।ভুরুঙ্গামারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে ১১২ টি স্কুলে মোট শিক্ষার্থীর ৯০% হারে প্রায় ১৭ হাজার ৩২৭ জন শিক্ষার্থী ফিডিং কর্মসূচির আওতায় পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে।
শুরুতেই কথা হয় প্রাক-প্রাথমিক এর খুদে শিক্ষার্থী নুজিহা নুরের সঙ্গে।টিফিনের খাবার কেমন লাগে-জানতে চাইলে মিষ্টি হেসে মাথা নেড়ে জানায়, তার বেশ ভালো লাগে।রুটি ও ডিম পেয়ে সে খুব খুশি। চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আলিফ আহমেদ বলেন ডিম রুটি খেলে আমাদের ক্ষুধা নিবারণ হয়, টিফিন আনতে হয় না। আমরা খুব মজা করে খাই।
ভুরুঙ্গামারী বালিকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এরশাদ হোসেন জানান স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালুর পর শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে।উপস্থিতির হার বেড়ে গেছে। আগে বিদ্যালয়ে গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও এখন তা বেড়ে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে। খাদ্যের গুণগতমান অনেক ভালো এবং নিয়মিতভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থী তাদের তো খাবার নিয়মিত পাচ্ছে।
মিলনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান বলেন এ কর্মসূচির ফলে ড্রপ আউট বাচ্চারা স্কুলগামী হচ্ছে এবং উপস্থিতির হার বেড়ে গেছে।এ কার্যক্রম চলমান থাকলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার শতভাগে উন্নীত হবে। পাশাপাশি মাদ্রাসা ও বিভিন্ন এনজিও স্কুল থেকে বাচ্চারা প্রাথমিক বিদ্যালয় ভর্তি হবে।সরবরাহকৃত বনরুটির মান খুবই ভালো এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মুক্ত।
সন্তানের জন্য অপেক্ষারত দেওয়ানেরখামার গ্রামের অভিভাবক সুমনা আক্তার বলেন বাচ্চারা এতে অনেক উৎসাহিত। সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেক আগ্রহী হয়ে স্কুলে আসার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে।মা হিসেবে আমাদের ভালো লাগে।বাচ্চারা যখন ডিম পাউরুটি পাচ্ছে তখন আনন্দিত হচ্ছে।সব মায়েদের পক্ষ থেকে আমরা চাচ্ছি এ কার্যক্রম যেন চলমান থাকে।
উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নের ছোটখাটামারি গ্রামের অভিভাবক আব্দুল কুদ্দুস বলেন নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় স্কুলে থাকে,তাদের জন্য এই কর্মসূচি বেশ উপকারী।আমাদের একটাই চাওয়া খাবারের মানটা যেন ভালো থাকে। শিশুরা যেন খাবার খেয়ে অসুস্থ না হয়।এ খাবার যেন তাদের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর হয়।
উপজেলা কো অর্ডিনেটর মজনু আলম জানান গত ২৮ শে ডিসেম্বর ২০২৫ ইং হতে আমাদের এ কর্মসূচি শুরু হয়।প্রতিদিন সকাল ৯টার দিকে খাবার সরবরাহ করা হয়।পুরো কার্যক্রম তদারকির জন্য পাঁচ সদস্যের একটি "মাদার্স কমিটি" গঠন করা হয়েছে।কমিটিতে তিনজন মা, একজন অভিভাবক সদস্য (বাবা) এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রয়েছেন।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জেলা ম্যানেজার রহিদুল ইসলাম বলেন জেলার ৫ টি উপজেলায় মোট ৪৭টি ইউনিয়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে পাশাপাশি চরাঞ্চলের ১২৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সময়মতো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত)।জাকির হোসেন জানান স্কুল ফিডিং কর্মসূচির ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পুরনে সহায়তা হয়েছে এবং বিদ্যালয়গুলোতে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক শিশু খালি পেটে স্কুলে আসতো।এতে ক্লাসে তাদের মনোযোগ কম থাকত।এখন স্কুলেই খাবার পাওয়ায় শিশুরা ক্লাসে বেশি মনোযোগী হচ্ছে।তিনি আরো বলেন এ উপজেলায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু রয়েছে।খাবার সরবরাহ থেকে শুরু করে পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন