দিরাই হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুরের মামলা আসামি শনাক্তে প্রশ্ন,নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
দিরাই,সুনামগঞ্জ।
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।মামলায় একপক্ষের কয়েকজনকে আসামি করায় হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন বিবাদীপক্ষের লোকজন। তাঁদের দাবি ঘটনার সময় কয়েকজন আসামি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করেই আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গত ১৬ ই অক্টোবর সাকিতপুর গ্রামের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত কয়েকজন দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন।এ সময় জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন জিবু মিয়াকে মারধর, কর্তব্যরত আনসার সদস্যকে লাঞ্ছিত এবং সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রায় বাদী হয়ে ২৭ অক্টোবর দিরাই থানায় মামলা করেন।
এজাহারে সাকিতপুর গ্রামের জাকারিয়া, মাহিম, হারুন, মোজাহিদ, আশরাফুল, সোহেল, মোজাম্মিল ও মোস্তাকিমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।এতে একটি ইসিজি মেশিন, সাকশন মেশিন, ওজন মাপার যন্ত্র, দুটি রোগীর শয্যা ও পানির কল ভাঙচুরের অভিযোগ এনে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার ১৫০ টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আসামিদের দাবি, ঘটনার সময় তাঁদের কয়েকজন হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না। মামলার ১ নম্বর আসামি জাকারিয়া সর্দার বলেন, ঘটনার দিন তিনি দিরাইয়ে থাকলেও তাঁকে হয়রানির উদ্দেশ্যে আসামি করা হয়েছে। মাহিম সর্দারও ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নন দাবি করে বলেন, হাসপাতালের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে আগে থানায় জিডি করা হয়েছিল,কিন্তু পরবর্তী মামলায় একপক্ষের লোকজনকেই আসামি করা হয়েছে।
আসামি সুহেল সর্দার মামলাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান। মোস্তাকিম মিয়াও ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও একপক্ষীয়ভাবে আসামি করার অভিযোগ তোলেন।অন্যদিকে মামলার সাক্ষী হাসপাতালের ক্লিনার বিধান দেবনাথ বলেন, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন। কয়েকজন জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে একজনকে মারধর শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয় এবং হাসপাতালের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভেঙে যায়। তবে তিনি কাউকে নাম ধরে শনাক্ত করতে পারেননি।সামনে দেখলে চিনতে পারবেন বলে জানান।তিনি আরও দাবি করেন, মামলার সাক্ষী চিকিৎসক ডা. ওয়াসিম আকরাম ঘটনার সময় জরুরি বিভাগে উপস্থিত ছিলেন না,পরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে সেখানে আসেন।
মামলার বাদী ডা. দেবাশীষ রায় বলেন, মামলার আসামিদের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ঘটনার সময় কারা উপস্থিত ছিলেন, তা আমি নিজে জানি না। উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য ও ভিডিও দেখে আসামি দেওয়া হয়েছে। এমপি, মন্ত্রী ও আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কথায় আমি মামলা দায়ের করেছি। আসামি কারা,তাঁদের আমি চিনি না।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন বলেন ঘটনার পর তিনি প্রথমে জিডি এবং পরবর্তী সময়ে মামলার পরামর্শ দিয়েছিলেন।তবে কাদের আসামি করা হয়েছে বা কাউকে অযথা আসামি করা হয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শ্রীজীব বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন।তদন্তে কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে। নতুন কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁর নামও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন অপরাধী হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর নির্দোষ হলে তদন্তের ভিত্তিতে তাঁকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে।হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার যেমন প্রয়োজন, তেমনি নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। তাই ভিডিও ফুটেজ,প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন