ঢাকা   রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
দৈনিক প্রথম সকাল

বিয়ের ফাঁদে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আকরাম হত্যার পর মুখ খুললেন নারীরা


| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বিয়ের ফাঁদে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আকরাম হত্যার পর মুখ খুললেন নারীরা
বিয়ের ফাঁদে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আকরাম হত্যার পর মুখ খুললেন নারীরা

বিশেষ প্রতিনিধি,দৈনিক প্রথম সকাল।

বর্তমানে আতংকের আরেক নাম সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা চুরি,ছিনতাই, খুন, মাদকের রমরমা ব্যবসার সাথে চলছে সাধারণ জনগণের উপর প্রভাবশালী ব্যাক্তি ও পরিবার বর্গের জুলুম নির্যাতন।এরই অংশ হিসেবে চলমান আছে চাঞ্চল্যকর আকরাম হত্যাকাণ্ডের তদন্তের কাজ।গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ণিমাগাতী ইউনিয়নের খোশালপুর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটেযুবক আকরাম সরকার (২০) হত্যার বিচার ও অভিযুক্ত মারুফ এবং তাঁর বাবা নুর মোহাম্মদের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্থানে চলছে মানববন্ধন।  

এদিকে উক্ত খুনের মামলায় গ্রেফতার প্রধান আসামি মারুফ বিন হাবিব সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে একের পর এক প্রতারণা, পূর্বের বিয়ের তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে,নারী কেলেংকারী, শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন, মাদক ব্যাবসা, ও অর্থ আত্মসাৎ, করার মতো আরও ভয়ংকর সব অপরাধের তথ্য।একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের মধ্যেই অভিযুক্তের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামনে আসা এসব অভিযোগ এলাকায় নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা আংশিক নিশ্চিত হলেও আকরাম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না,তা এখনো নিশ্চিত নয়।নিহত আকরাম সরকার গয়হাট্টা কোনাগাতী গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকের হেলপার ছিলেন। পাশাপাশি কৃষিকাজ করেও জীবিকা নির্বাহ করতেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে মোবাইল ফোনে আকরামকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন মারুফ। দীর্ঘ সময় পার হলেও আকরাম বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে আকরামের বাবা আব্দুর রহিম তাঁর চাচাকে সঙ্গে নিয়ে মারুফের বাড়িতে যান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তাঁরা বাড়ির পেছনের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন।এ সময় বাড়ির পেছনে টয়লেটের সামনে আকরামের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।

পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী আকরামের ঘাড়ে গভীর ক্ষতসহ পিঠ ও হাতে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত ছিল।নিহতের বাবার দাবি, রাত আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে স্থানীয় লোকজন মারুফকে তাঁর শয়নকক্ষে আটকে রাখেন। পরে খবর পেয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুর রহিম বাদী হয়ে মারুফ বিন হাবিব,তাঁর বাবা নুর মোহাম্মদসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এজাহারে আকরামকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে অন্য আসামিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তাধীন।অভিযুক্ত মারুফের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আকরামের সঙ্গে তাঁর মা-বাবার খারাপ আচরণকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা বলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ওই আচরণ একপর্যায়ে ধর্ষণ-সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিতে গড়িয়েছিল এবং এ কারণেই তিনি আকরামকে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন। 

তবে মারুফের এই বক্তব্যের স্বাধীন সমর্থন, কথিত ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ কিংবা এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাঁর এমন দাবির সত্যতা কী,এর পেছনে কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কথিত বিরোধের সম্পর্ক কী এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।হত্যাকাণ্ডের পর মারুফের বিরুদ্ধে একাধিক নারীর অভিযোগ সামনে প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁদের অভিযোগ, বিয়ের তথ্য গোপন করে সম্পর্ক তৈরি, অর্থ ও স্বর্ণালংকার নেওয়া, শারীরিক নির্যাতন এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো ঘটনা ঘটেছে।

মারুফের দ্বিতীয় স্ত্রী পরিচয় দেওয়া স্বজনী সরকার জানান, মারুফের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং পরে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের পর তাঁর কাছ থেকে প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার পর মারুফ উধাও হয়ে যান। পরে মারুফের বাড়িতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে পারিবারিক ভাবে ক্ষমতার জোরে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানো হয়।

বর্তমানে তানজিমা আক্তার তিশা মারুফের তৃতীয় স্ত্রী বলেন তাঁকে বিয়ে করার আগে মারুফ তার বিগত দুটো বিয়ের কথা গোপন রেখেই সম্পুর্ন অবিবাহিত সেজে তিশাকে বিয়ে করেন। তিশার নিজ অর্থায়নে ভাড়া করা বাসায় সংসার শুরু করেন।পরবর্তীতে বিয়ের দেড় বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও যখন সামাজিক মর্যাদা দিতে মারুফ গড়িমসি করছিলো তখন কলহের জের ধরে মারুফ নিজ বাসস্থান উল্লাপাড়ায় চলে আসে এবং বর্তমান স্ত্রী তিশার সহিত যোগাযোগ বন্ধ রাখে।এমতাবস্থায় মারুফের বড় ভাই মামুন তালুকদারের মাধ্যমে তিশা পুর্বের দুই বিয়ের বিষয়ে অবগত হয়। 

মামুন তালুকদার তিশাকে আরও বলেন ক্লাস নাইনে পড়ার সময় মারুফ তৈয়বা নামের এক মেয়ের সঙ্গে বিয়ের হলফনামা করেছিলেন। এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার পর ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার চেষ্টা করেন। তৈয়বা মারুফের নিকটাত্মীয় হওয়ায় মারুফের বড় ভাই মামুন ও তাঁর বাবা অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছিলেন। তানজিমা আক্তার তিশা একান্ত নিরুপায় হয়ে মারুফের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ২০২২ সালে পরিচয় হওয়ার পর থেকে মারুফ নিজ উদ্যোগে তিশার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে। 

বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনের এক পর্যায়ে ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর মারুফের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তিশার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর আগের বিয়ে ও সন্তান থাকার বিষয়টি পরিচয়ের শুরু থেকেই মারুফের কাছে প্রকাশ্য ছিলো। সব কিছু জানার পরও মারুফ সেচ্ছায় তাঁকে বিয়ে করতে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রস্তাব করেন এবং তাঁর ও সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে তাঁদের বিয়ে নিবন্ধিত হয়। সমস্ত তথ্য প্রমান এর ভিত্তিতে দেখা যায় তিশা ও মারুফ বিয়ের শুরু থেকে সামাজিক ভাবে প্রকাশ্যে শান্তিপূর্ণ ভাবে সংসার জীবন অতিবাহিত করলেও গত এপ্রিল মাসে তিশা ১ম বার সন্তানসম্ভবা হওয়ার পর থেকে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরা শুরু করে এবং মারুফ তাঁকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন এবং সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দেন। এমতাবস্থায় তিশা সংসার রক্ষার্থে তা করতে বাধ্যহয়, কিন্তু চিকিৎসার কোন ব্যায়ভার মারুফ বহন করেনি।

পরবর্তীতে মারুফের নিজ ইচ্ছায় ২২ মে ২০২৬ মারুফ তার পরিবারকে তিশাকে বিয়ে করার বিষয়টি জানালে তার পরিবার থেকে তিশাকে ও মারুফকে নানা হুমকি দেওয়া হয় এবং তিশাকে ছেড়ে উল্লাপাড়ায় চলে আসার জন্য পরিবার থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়।দীর্ঘ ১ মাস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার পর মারুফ নিজ ইচ্ছায় গত জুন মাসে তিশার কাছে ফিরে আসে এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।কিন্তু গত আগস্ট মাসের মাঝামাঝি থেকে মারুফের বাবা, ছোট বোন মৌসুমি, ভগ্নিপতি জাহিদ হাসান বেশ মোটা অংকের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মারুফকে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে যেনো তিশার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে উল্লাপাড়ায় একেবারে এসে অবস্থান করে।মারুফের পুর্বের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য গুনে লোভাতুর মারুফ দ্বিতীয়বার গর্ভাবস্থায় তিশাকে ফেলে গত ২৬ আগস্ট রাজশাহী যাওয়ার কথা বলে উল্লাপাড়ায় চলে আসে এবং তিশার সাথে সব রকমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

যাওয়ার আগে মারুফ তিশার বাসা থেকে স্ত্রীর অগোচরে কয়েক ভরি স্বর্নলংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে যায়। ২য় বার গর্ভধারণের বিষয়টি তার পরিবারকে জানানোর পরও তাঁর অথবা তাঁর বাবা, বড় ভাই মামুনের আচরণে পরিবর্তন আসেনি বরং তারা তিশাকে বিভিন্ন হুমকি ধমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।তিশার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর সংসার জীবন অতিবাহিত করা অবস্থায় তাঁর জমানো প্রায় ১৩ লাখ টাকা এবং ১১ ভরি স্বর্ণালংকার মারুফের কারণে খরচ বা খোয়া গেছে। যেহেতু মিথ্যা পড়াশোনার অজুহাতে ও প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীর কাছে মারুফ সময় চেয়েছিলো। 

পরবর্তীতে তাদের এহেন আচরন, অবহেলা ও মানুষিক নির্যাতনের কারনে তিশা ও তাঁর অনাগত সন্তানের জীবন বিপর্যয়ের মুখে পতিত হলে তিশা সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে। উল্লেখ্য ২৭ সেপ্টেম্বরের পর থেকে মারুফের পরিবারের আর কারো সাথে তিশার কোন যোগাযোগ হয়নি।এরই মধ্যে মারুফের এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সার্বিক পরিস্থিতি ভিন্ন রুপ ধারণ করে।তিনি শারীরিক ও মানুষিক অসুস্থতার কারনে চিকিৎসাধীন আছেন। 

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।আকরাম হত্যার বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে উল্লাপাড়ার বিভিন্ন স্থানে মাঝেমধ্যেই মানববন্ধন করছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।মানববন্ধনে আকরামের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। খুনি বাপ-ছেলের ফাঁসি চাই। পুলিশ একজন খুনির বাড়ি পাহারা দিয়েছে। একজন খুনির বাড়িতে যদি পুলিশ পাহারা দেয়, তাহলে বিচারব্যবস্থা কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে?

তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ এবং বিচার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে বাড়িতে পুলিশ মোতায়েনের কারণ, সেখানে নিরাপত্তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং পুলিশের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও জানা জরুরি।মারুফ বিন হাবিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাঁর শিক্ষাজীবন ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে হত্যাকাণ্ড কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই।

সার্বিক বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকরাম হত্যা মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে কারা কারা জড়িত, ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তের স্বার্থে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ, ঘটনার আগে-পরে তাঁদের অবস্থান এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে।পুলিশের তদন্তে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, অন্য আসামিদের ভূমিকা এবং অভিযুক্তের দেওয়া বক্তব্যের সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন নিহতের স্বজনরা।

আকরামকে কেন হত্যা করা হলো? ঘটনার আগে তাঁর সঙ্গে মারুফের প্রকৃত বিরোধ কী ছিল? হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না? অভিযুক্তের দেওয়া বক্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ রয়েছে কি? মারুফের বিরুদ্ধে একাধিক নারীর থেকে অর্থ আত্মসাৎ, বিয়ে গোপন ও নির্যাতনের অভিযোগগুলোর সত্যতা কী?এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। আকরাম হত্যাকাণ্ডের তদন্তের পাশাপাশি মারুফের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগেরও আইনগত ও স্বতন্ত্র তদন্ত প্রয়োজন।

একটি তরুণ প্রাণের এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার চান আকরামের পরিবার। এখন তাঁদের অপেক্ষা তদন্তের ফল এবং আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার।ময়না তদন্ত প্রতিবেদন ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত,সাক্ষীদের বক্তব্য তথ্যপ্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও অভিযুক্তের বক্তব্য যাচাইয়ের মধ্য দিয়েই বেরিয়ে আসতে পারে আকরাম হত্যার প্রকৃত রহস্য।

বিষয় : সারাদেশ অপরাধ সিরাজগঞ্জ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক প্রথম সকাল

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


বিয়ের ফাঁদে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আকরাম হত্যার পর মুখ খুললেন নারীরা

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিশেষ প্রতিনিধি,দৈনিক প্রথম সকাল।

বর্তমানে আতংকের আরেক নাম সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা চুরি,ছিনতাই, খুন, মাদকের রমরমা ব্যবসার সাথে চলছে সাধারণ জনগণের উপর প্রভাবশালী ব্যাক্তি ও পরিবার বর্গের জুলুম নির্যাতন।এরই অংশ হিসেবে চলমান আছে চাঞ্চল্যকর আকরাম হত্যাকাণ্ডের তদন্তের কাজ।গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ণিমাগাতী ইউনিয়নের খোশালপুর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটেযুবক আকরাম সরকার (২০) হত্যার বিচার ও অভিযুক্ত মারুফ এবং তাঁর বাবা নুর মোহাম্মদের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্থানে চলছে মানববন্ধন।  

এদিকে উক্ত খুনের মামলায় গ্রেফতার প্রধান আসামি মারুফ বিন হাবিব সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে একের পর এক প্রতারণা, পূর্বের বিয়ের তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে,নারী কেলেংকারী, শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন, মাদক ব্যাবসা, ও অর্থ আত্মসাৎ, করার মতো আরও ভয়ংকর সব অপরাধের তথ্য।একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের মধ্যেই অভিযুক্তের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামনে আসা এসব অভিযোগ এলাকায় নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা আংশিক নিশ্চিত হলেও আকরাম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না,তা এখনো নিশ্চিত নয়।নিহত আকরাম সরকার গয়হাট্টা কোনাগাতী গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকের হেলপার ছিলেন। পাশাপাশি কৃষিকাজ করেও জীবিকা নির্বাহ করতেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে মোবাইল ফোনে আকরামকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন মারুফ। দীর্ঘ সময় পার হলেও আকরাম বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে আকরামের বাবা আব্দুর রহিম তাঁর চাচাকে সঙ্গে নিয়ে মারুফের বাড়িতে যান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তাঁরা বাড়ির পেছনের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন।এ সময় বাড়ির পেছনে টয়লেটের সামনে আকরামের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।

পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী আকরামের ঘাড়ে গভীর ক্ষতসহ পিঠ ও হাতে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত ছিল।নিহতের বাবার দাবি, রাত আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে স্থানীয় লোকজন মারুফকে তাঁর শয়নকক্ষে আটকে রাখেন। পরে খবর পেয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুর রহিম বাদী হয়ে মারুফ বিন হাবিব,তাঁর বাবা নুর মোহাম্মদসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এজাহারে আকরামকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে অন্য আসামিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তাধীন।অভিযুক্ত মারুফের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আকরামের সঙ্গে তাঁর মা-বাবার খারাপ আচরণকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা বলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ওই আচরণ একপর্যায়ে ধর্ষণ-সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিতে গড়িয়েছিল এবং এ কারণেই তিনি আকরামকে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন। 

তবে মারুফের এই বক্তব্যের স্বাধীন সমর্থন, কথিত ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ কিংবা এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাঁর এমন দাবির সত্যতা কী,এর পেছনে কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কথিত বিরোধের সম্পর্ক কী এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।হত্যাকাণ্ডের পর মারুফের বিরুদ্ধে একাধিক নারীর অভিযোগ সামনে প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁদের অভিযোগ, বিয়ের তথ্য গোপন করে সম্পর্ক তৈরি, অর্থ ও স্বর্ণালংকার নেওয়া, শারীরিক নির্যাতন এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো ঘটনা ঘটেছে।

মারুফের দ্বিতীয় স্ত্রী পরিচয় দেওয়া স্বজনী সরকার জানান, মারুফের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং পরে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের পর তাঁর কাছ থেকে প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার পর মারুফ উধাও হয়ে যান। পরে মারুফের বাড়িতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে পারিবারিক ভাবে ক্ষমতার জোরে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানো হয়।

বর্তমানে তানজিমা আক্তার তিশা মারুফের তৃতীয় স্ত্রী বলেন তাঁকে বিয়ে করার আগে মারুফ তার বিগত দুটো বিয়ের কথা গোপন রেখেই সম্পুর্ন অবিবাহিত সেজে তিশাকে বিয়ে করেন। তিশার নিজ অর্থায়নে ভাড়া করা বাসায় সংসার শুরু করেন।পরবর্তীতে বিয়ের দেড় বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও যখন সামাজিক মর্যাদা দিতে মারুফ গড়িমসি করছিলো তখন কলহের জের ধরে মারুফ নিজ বাসস্থান উল্লাপাড়ায় চলে আসে এবং বর্তমান স্ত্রী তিশার সহিত যোগাযোগ বন্ধ রাখে।এমতাবস্থায় মারুফের বড় ভাই মামুন তালুকদারের মাধ্যমে তিশা পুর্বের দুই বিয়ের বিষয়ে অবগত হয়। 

মামুন তালুকদার তিশাকে আরও বলেন ক্লাস নাইনে পড়ার সময় মারুফ তৈয়বা নামের এক মেয়ের সঙ্গে বিয়ের হলফনামা করেছিলেন। এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার পর ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার চেষ্টা করেন। তৈয়বা মারুফের নিকটাত্মীয় হওয়ায় মারুফের বড় ভাই মামুন ও তাঁর বাবা অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছিলেন। তানজিমা আক্তার তিশা একান্ত নিরুপায় হয়ে মারুফের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ২০২২ সালে পরিচয় হওয়ার পর থেকে মারুফ নিজ উদ্যোগে তিশার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে। 

বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনের এক পর্যায়ে ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর মারুফের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তিশার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর আগের বিয়ে ও সন্তান থাকার বিষয়টি পরিচয়ের শুরু থেকেই মারুফের কাছে প্রকাশ্য ছিলো। সব কিছু জানার পরও মারুফ সেচ্ছায় তাঁকে বিয়ে করতে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রস্তাব করেন এবং তাঁর ও সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে তাঁদের বিয়ে নিবন্ধিত হয়। সমস্ত তথ্য প্রমান এর ভিত্তিতে দেখা যায় তিশা ও মারুফ বিয়ের শুরু থেকে সামাজিক ভাবে প্রকাশ্যে শান্তিপূর্ণ ভাবে সংসার জীবন অতিবাহিত করলেও গত এপ্রিল মাসে তিশা ১ম বার সন্তানসম্ভবা হওয়ার পর থেকে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরা শুরু করে এবং মারুফ তাঁকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন এবং সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দেন। এমতাবস্থায় তিশা সংসার রক্ষার্থে তা করতে বাধ্যহয়, কিন্তু চিকিৎসার কোন ব্যায়ভার মারুফ বহন করেনি।

পরবর্তীতে মারুফের নিজ ইচ্ছায় ২২ মে ২০২৬ মারুফ তার পরিবারকে তিশাকে বিয়ে করার বিষয়টি জানালে তার পরিবার থেকে তিশাকে ও মারুফকে নানা হুমকি দেওয়া হয় এবং তিশাকে ছেড়ে উল্লাপাড়ায় চলে আসার জন্য পরিবার থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়।দীর্ঘ ১ মাস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার পর মারুফ নিজ ইচ্ছায় গত জুন মাসে তিশার কাছে ফিরে আসে এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।কিন্তু গত আগস্ট মাসের মাঝামাঝি থেকে মারুফের বাবা, ছোট বোন মৌসুমি, ভগ্নিপতি জাহিদ হাসান বেশ মোটা অংকের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মারুফকে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে যেনো তিশার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে উল্লাপাড়ায় একেবারে এসে অবস্থান করে।মারুফের পুর্বের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য গুনে লোভাতুর মারুফ দ্বিতীয়বার গর্ভাবস্থায় তিশাকে ফেলে গত ২৬ আগস্ট রাজশাহী যাওয়ার কথা বলে উল্লাপাড়ায় চলে আসে এবং তিশার সাথে সব রকমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

যাওয়ার আগে মারুফ তিশার বাসা থেকে স্ত্রীর অগোচরে কয়েক ভরি স্বর্নলংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে যায়। ২য় বার গর্ভধারণের বিষয়টি তার পরিবারকে জানানোর পরও তাঁর অথবা তাঁর বাবা, বড় ভাই মামুনের আচরণে পরিবর্তন আসেনি বরং তারা তিশাকে বিভিন্ন হুমকি ধমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।তিশার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর সংসার জীবন অতিবাহিত করা অবস্থায় তাঁর জমানো প্রায় ১৩ লাখ টাকা এবং ১১ ভরি স্বর্ণালংকার মারুফের কারণে খরচ বা খোয়া গেছে। যেহেতু মিথ্যা পড়াশোনার অজুহাতে ও প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীর কাছে মারুফ সময় চেয়েছিলো। 

পরবর্তীতে তাদের এহেন আচরন, অবহেলা ও মানুষিক নির্যাতনের কারনে তিশা ও তাঁর অনাগত সন্তানের জীবন বিপর্যয়ের মুখে পতিত হলে তিশা সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে। উল্লেখ্য ২৭ সেপ্টেম্বরের পর থেকে মারুফের পরিবারের আর কারো সাথে তিশার কোন যোগাযোগ হয়নি।এরই মধ্যে মারুফের এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সার্বিক পরিস্থিতি ভিন্ন রুপ ধারণ করে।তিনি শারীরিক ও মানুষিক অসুস্থতার কারনে চিকিৎসাধীন আছেন। 

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।আকরাম হত্যার বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে উল্লাপাড়ার বিভিন্ন স্থানে মাঝেমধ্যেই মানববন্ধন করছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।মানববন্ধনে আকরামের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। খুনি বাপ-ছেলের ফাঁসি চাই। পুলিশ একজন খুনির বাড়ি পাহারা দিয়েছে। একজন খুনির বাড়িতে যদি পুলিশ পাহারা দেয়, তাহলে বিচারব্যবস্থা কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে?

তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ এবং বিচার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে বাড়িতে পুলিশ মোতায়েনের কারণ, সেখানে নিরাপত্তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং পুলিশের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও জানা জরুরি।মারুফ বিন হাবিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাঁর শিক্ষাজীবন ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে হত্যাকাণ্ড কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই।

সার্বিক বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকরাম হত্যা মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে কারা কারা জড়িত, ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তের স্বার্থে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ, ঘটনার আগে-পরে তাঁদের অবস্থান এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে।পুলিশের তদন্তে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, অন্য আসামিদের ভূমিকা এবং অভিযুক্তের দেওয়া বক্তব্যের সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন নিহতের স্বজনরা।

আকরামকে কেন হত্যা করা হলো? ঘটনার আগে তাঁর সঙ্গে মারুফের প্রকৃত বিরোধ কী ছিল? হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না? অভিযুক্তের দেওয়া বক্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ রয়েছে কি? মারুফের বিরুদ্ধে একাধিক নারীর থেকে অর্থ আত্মসাৎ, বিয়ে গোপন ও নির্যাতনের অভিযোগগুলোর সত্যতা কী?এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। আকরাম হত্যাকাণ্ডের তদন্তের পাশাপাশি মারুফের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগেরও আইনগত ও স্বতন্ত্র তদন্ত প্রয়োজন।

একটি তরুণ প্রাণের এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার চান আকরামের পরিবার। এখন তাঁদের অপেক্ষা তদন্তের ফল এবং আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার।ময়না তদন্ত প্রতিবেদন ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত,সাক্ষীদের বক্তব্য তথ্যপ্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও অভিযুক্তের বক্তব্য যাচাইয়ের মধ্য দিয়েই বেরিয়ে আসতে পারে আকরাম হত্যার প্রকৃত রহস্য।



দৈনিক প্রথম সকাল

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ কামাল আহমেদ 
বার্তা সম্পাদকঃ কাওসার হোসেন
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক প্রথম সকাল । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত