দুর্গাপুরে চেয়ারম্যান পদে আলোচনার কেন্দ্রে মোহাম্মদ আলী লিটন,জনসম্পৃক্ততাই হতে পারে নির্বাচনী শক্তি
সুমন আহমেদ,দুর্গাপুর,কুমিল্লা।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ২ নম্বর দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।এরই মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিএনপি নেতা ও সমাজসেবক মোহাম্মদ আলী লিটন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা,সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের নির্বাচনী আলোচনায় নিজের অবস্থান তৈরি করছেন তিনি।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়
মোহাম্মদ আলী লিটন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির তাঁতী ও মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক এবং একই উপজেলার মৎস্যজীবী দলের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।বিশেষ করে এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।তার সমর্থকদের মতে দীর্ঘদিনের এই সামাজিক সম্পৃক্ততাই তাকে নির্বাচনী আলোচনায় এগিয়ে রাখছে।
ভোটারদের চাওয়া - কাছের মানুষ,জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় আসন্ন নির্বাচনে তারা এমন একজন জনপ্রতিনিধি প্রত্যাশা করছেন,যিনি নির্বাচিত হওয়ার পরও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলেযাবেন না। এলাকার রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা,সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দার ভাষ্য,মোহাম্মদ আলী লিটন দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পেলে তিনি এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তাদের আশা।
তরুণদের প্রত্যাশা কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন
ইউনিয়নের তরুণ ও যুবসমাজের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে রয়েছে নানা প্রত্যাশা। তাদের মতে, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, যুবকদের কর্মসংস্থান, কারিগরি প্রশিক্ষণ,মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং খেলাধুলার পরিবেশ তৈরিতেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।তারা মনে করেন, নতুন নেতৃত্বের কাছে এসব বিষয় অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
‘ক্ষমতা নয়, জনগণের সেবাই আমার লক্ষ্য’
নিজের নির্বাচনী ভাবনা সম্পর্কে মোহাম্মদ আলী লিটন বলেন, “আমি ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের পাশে থেকে তাদের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। দুর্গাপুরবাসী আমাকে সেবা করার সুযোগ দিলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, ডিজিটাল ও জনবান্ধব এলাকায় রূপান্তরের চেষ্টা করব,ইনশাআল্লাহ"।
নির্বাচনী মাঠে কী হবে সমীকরণ?
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা এবং ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সে বিবেচনায় মোহাম্মদ আলী লিটনকে ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা আগামী দিনে নির্বাচনী সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের আগামী দিনের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা একটাই - জনপ্রতিনিধি হবেন জনগণের, শাসক নয়,সেবক।
আপনার মতামত লিখুন