ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
দৈনিক প্রথম সকাল

কুড়িগ্রাম জজকোর্টের আশেপাশে দোকানপাট বিচার প্রার্থীদের হয়রানি ও ভোগান্তি


| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

কুড়িগ্রাম জজকোর্টের আশেপাশে দোকানপাট বিচার প্রার্থীদের হয়রানি ও ভোগান্তি
কুড়িগ্রাম জজকোর্টের আশেপাশে দোকানপাট বিচার প্রার্থীদের হয়রানি ও ভোগান্তি

মোহাম্মদ কামরুল হাসান কাজল,কুড়িগ্রাম। 

কুড়িগ্রাম জজকোর্টের আশেপাশে ফুটপাথ দখল করে দোকানপাট বসানোয় চলাচলে অসুবিধা ও বিশৃঙ্খলা,দুর্ঘটনা,আদালত প্রাঙ্গণ হইতে বিচার প্রার্থীদের জিম্মি করে তুলে নিয়ে গিয়ে টাকা আদায় করা ,বিচার প্রার্থীদের হয়রানি ও ভোগান্তি একটি প্রচলিত সমস্যা।কোর্টের আশেপাশে বিভিন্ন ভ্রাম্যমান দোকান।

চা,পান, সিগারেট,ইঁদুর-তেলাপোকা মারার বিষ, ঝালমুড়ি, আচার, বাদাম, আইসক্রিম,কলা, পেঁপে,শসা,গাজর,আনারস,ডাব সবই বিক্রি হয়। দূর থেকে দেখে মনে হয় গ্রামের ছোটো খাটো কোনো একটি বাজার। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভিড় ঠেলেই এক কোর্ট থেকে আরেক কোর্টে চলাচল করতে হয় বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদেরকে।

বিচারপ্রার্থীরা একটু বসতেও পারে না।এসব কারণে কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে দোকান পাট ও হকার মুক্ত করতে বিভিন্ন সময় দাবি করেছেন আইনজীবীরা।দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান হলেও এক শ্রেণীর ক্ষমতাশালীদের কারণে ভ্রাম্যমান এসব দোকানপাট ও হকাররা আবার বসে পড়ে।যেখানে বিচার প্রার্থীদের কাছ থেকে বেশি দামে জিনিসপত্র বিক্রি, দালালদের দৌরাত্ম্য, ও অপ্রয়োজনীয় খরচ চাপানো হয়।বিচার প্রার্থীদের কাছ থেকে খাবার, পানীয়, ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাজারের চেয়ে অনেক বেশি অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হয়।

দালালদের দৌরাত্ম্য বিচার প্রার্থীদের কাছ থেকে কাজের লোক বা সহায়তাকারী সেজে বিচারপ্রার্থীদের ভূল পথে চালিত করে ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকে।বিচার প্রার্থীদের কাছ থেকে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় স্টেশনারি বা কাগজপত্র কিনতে বাধ্য করা হয়।বিচার প্রার্থী মোহাম্মদ আয়নাল হোসেন বলেন, নির্দিষ্ট স্থানে আদালতের আশেপাশে দোকানপাট ও হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা দরকার। যাতে বিচার প্রার্থীগন ভোগান্তির শিকার না হয়। 

বিচার প্রার্থী মোঃ আবুল সরকার বলেন আদালত চত্বর ও এর আশেপাশে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও টহল বাড়ানো, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের মাধ্যমে দালাল ও হয়রানিকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিলে বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি কমবে।বিচার প্রার্থী মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, বিচারপ্রার্থীদের অভিযোগ জানানোর জন্য একটি হেল্পডেস্ক বা অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন করা এবং সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া খুবই জরুরী। 

বিচার প্রার্থী মোহাম্মদ লিটন মিয়া বলেন,  বিচারপ্রার্থীরা যেন কোনো দালাল বা অতিরিক্ত দামে বিক্রেতার ফাঁদে পা না দেন এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করলে বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি কমবে।কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন এটি বন্ধে আদালতের আশেপাশে নজরদারি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা জরুরি। যাতে বিচারপ্রার্থীরা সহজে ও ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় সেবা পায় এবং হয়রানি থেকে মুক্তি পায়। এই ব্যাপারে  জেলা জজ সহ সংস্লিস্ট সকলের হস্তক্ষেপ দাবী করছি। যা বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি কমাবে।

কুড়িগ্রামের সিনিয়র আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, এই সমস্যা সমাধানে প্রশাসন,আদালত এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। যাতে বিচারপ্রার্থীরা হয়রানি মুক্ত পরিবেশে বিচারপ্রার্থী হতে পারেন।দোকানপাঠ উচ্ছেদ না হলে  বিচারপ্রাথী সহ সংশ্লিষ্ট সকলের  নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিষয় : সারাদেশ আইন কুড়িগ্রাম

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক প্রথম সকাল

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


কুড়িগ্রাম জজকোর্টের আশেপাশে দোকানপাট বিচার প্রার্থীদের হয়রানি ও ভোগান্তি

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

মোহাম্মদ কামরুল হাসান কাজল,কুড়িগ্রাম। 

কুড়িগ্রাম জজকোর্টের আশেপাশে ফুটপাথ দখল করে দোকানপাট বসানোয় চলাচলে অসুবিধা ও বিশৃঙ্খলা,দুর্ঘটনা,আদালত প্রাঙ্গণ হইতে বিচার প্রার্থীদের জিম্মি করে তুলে নিয়ে গিয়ে টাকা আদায় করা ,বিচার প্রার্থীদের হয়রানি ও ভোগান্তি একটি প্রচলিত সমস্যা।কোর্টের আশেপাশে বিভিন্ন ভ্রাম্যমান দোকান।

চা,পান, সিগারেট,ইঁদুর-তেলাপোকা মারার বিষ, ঝালমুড়ি, আচার, বাদাম, আইসক্রিম,কলা, পেঁপে,শসা,গাজর,আনারস,ডাব সবই বিক্রি হয়। দূর থেকে দেখে মনে হয় গ্রামের ছোটো খাটো কোনো একটি বাজার। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভিড় ঠেলেই এক কোর্ট থেকে আরেক কোর্টে চলাচল করতে হয় বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদেরকে।

বিচারপ্রার্থীরা একটু বসতেও পারে না।এসব কারণে কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে দোকান পাট ও হকার মুক্ত করতে বিভিন্ন সময় দাবি করেছেন আইনজীবীরা।দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান হলেও এক শ্রেণীর ক্ষমতাশালীদের কারণে ভ্রাম্যমান এসব দোকানপাট ও হকাররা আবার বসে পড়ে।যেখানে বিচার প্রার্থীদের কাছ থেকে বেশি দামে জিনিসপত্র বিক্রি, দালালদের দৌরাত্ম্য, ও অপ্রয়োজনীয় খরচ চাপানো হয়।বিচার প্রার্থীদের কাছ থেকে খাবার, পানীয়, ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাজারের চেয়ে অনেক বেশি অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হয়।

দালালদের দৌরাত্ম্য বিচার প্রার্থীদের কাছ থেকে কাজের লোক বা সহায়তাকারী সেজে বিচারপ্রার্থীদের ভূল পথে চালিত করে ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকে।বিচার প্রার্থীদের কাছ থেকে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় স্টেশনারি বা কাগজপত্র কিনতে বাধ্য করা হয়।বিচার প্রার্থী মোহাম্মদ আয়নাল হোসেন বলেন, নির্দিষ্ট স্থানে আদালতের আশেপাশে দোকানপাট ও হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা দরকার। যাতে বিচার প্রার্থীগন ভোগান্তির শিকার না হয়। 

বিচার প্রার্থী মোঃ আবুল সরকার বলেন আদালত চত্বর ও এর আশেপাশে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও টহল বাড়ানো, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের মাধ্যমে দালাল ও হয়রানিকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিলে বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি কমবে।বিচার প্রার্থী মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, বিচারপ্রার্থীদের অভিযোগ জানানোর জন্য একটি হেল্পডেস্ক বা অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন করা এবং সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া খুবই জরুরী। 

বিচার প্রার্থী মোহাম্মদ লিটন মিয়া বলেন,  বিচারপ্রার্থীরা যেন কোনো দালাল বা অতিরিক্ত দামে বিক্রেতার ফাঁদে পা না দেন এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করলে বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি কমবে।কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন এটি বন্ধে আদালতের আশেপাশে নজরদারি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা জরুরি। যাতে বিচারপ্রার্থীরা সহজে ও ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় সেবা পায় এবং হয়রানি থেকে মুক্তি পায়। এই ব্যাপারে  জেলা জজ সহ সংস্লিস্ট সকলের হস্তক্ষেপ দাবী করছি। যা বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি কমাবে।

কুড়িগ্রামের সিনিয়র আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, এই সমস্যা সমাধানে প্রশাসন,আদালত এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। যাতে বিচারপ্রার্থীরা হয়রানি মুক্ত পরিবেশে বিচারপ্রার্থী হতে পারেন।দোকানপাঠ উচ্ছেদ না হলে  বিচারপ্রাথী সহ সংশ্লিষ্ট সকলের  নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।



দৈনিক প্রথম সকাল

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ কামাল আহমেদ 
বার্তা সম্পাদকঃ কাওসার হোসেন
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক প্রথম সকাল । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত